ইউপিডিএফ’র এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ৩৬ বছর পর সুস্থ, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফিরে এসেছেন। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মনরঞ্জন চাকমার পুত্র আনন্দ চাকমা ওরফে পরিচিত চাকমা গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর কাছে একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শুভ সূচনা করেন। এরপর দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিচিত চাকমা সন্ত্রাসী জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জানা গেছে, আনন্দ চাকমা ওরফে পরিচিত চাকমা ৩৬ বছর ধরে শান্তি বাহিনী এবং জনসংহতি সমিতির তথাকথিত আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। সর্বশেষ গত ৪ বছর ধরে তিনি ইউপিডিএফ (মূল) এর নানিয়ারচর সার্কেলের বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সংগঠন ছেড়ে আসার কারণ হিসেবে তিনি ইউপিডিএফ’র আদর্শ ও নীতিহীনতাকে দায়ী করেন। তার মতে, ‘ইউপিডিএফ একটি নীতিহীন সন্ত্রাসী সংগঠন। গুম, খুন, হত্যা ও অপহরণই আজকের ইউপিডিএফ’র আসল কাজ। ইউপিডিএফ প্রধানসহ সকল নেতাকর্মী রক্তের নেশা ও ক্ষমতার মোহে পড়ে আছে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া তিনি বলেন, ইউপিডিএফ’র কাছে স্বজাতীয় কোন ভাইবোনও নিরাপদ নয়। তাদের সাথে মতের অমিল থাকার কারণে বর্মা ও শক্তিমান চাকমাসহ অনেককেই ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে খুন করেছে।’
পরিচিত চাকমা বলেন, পাহাড়ের মা বোনেরাও ইউপিডিএফ-এর পাশবিকতায় আজ বিপর্যস্ত। সম্প্রতি ইউপিডিএফ’র নির্যাতনের শিকার রাঙ্গামাটির মিতালী চাকমার প্রসঙ্গ তুলে ধরে পরিচিত চাকমা বলেন, আমারও ডিগ্রী পড়ুয়া একটি মেয়ে আছে তার ভবিষ্যত্ নিয়ে আমিও শঙ্কিত। এ সকল কারণে তিনি সন্ত্রাসের জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। তার মত, অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলেও প্রাণ ভয়ে ফিরে আসতে পারছেন না বলে তিনি জানান। সরকার ও নিরাপত্তা বাহনীর কাছে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চান এবং বাকি জীবনটা একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে সুখে শান্তিতে অতিবাহিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
