জাজিরায় পদ্মার ভাঙন, ঘর সরাচ্ছেন নদীতীরের বাসিন্দারা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫১

শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর ভাঙনে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার পালেরচর এলাকায় সম্প্রতি নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের স্লাবসহ বিস্তীর্ণ অংশ নদীতে ধসে পড়ায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে কেউ কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন।

জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মার ভাঙনে গত কয়েক বছরে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। নড়িয়ার অধিকাংশ এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেও জাজিরার বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে জাজিরায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চললেও এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর পূর্ব নাওডোবা এলাকায় পদ্মা সেতুর ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর এবার পালেরচর এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশের স্লাব ধসে নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণে যথাযথভাবে কাজ না হওয়ায় ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধের বাইরে পর্যাপ্ত স্লাব ডাম্পিং না করার অভিযোগ করেছেন তারা।

তবে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, বাঁধ নির্মাণের কাজ এখনও চলমান। পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ স্লাব ডাম্পিং করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আকস্মিক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি।

পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজি বলেন, ‘নদীভাঙন নিয়ে আমরা অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে আছি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছি। ত্রাণসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাজও চলছে।’

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান মানহীন কাজের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বেড়িবাঁধের কাজ এখনও চলমান এবং পুরোপুরি শেষ হয়নি। এর মধ্যেই আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭০ মিটার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।’

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ভাঙন বন্ধ করা না গেলে আরও বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

ইত্তেফাক/এমএএম