ভাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদে সংঘর্ষ, নিহত ১

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৯

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সানি ব্যাপারী (১৯) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে সবুজ ব্যাপারী, মনির ব্যাপারী, আরাফাত হোসেন, শাবানা বেগম ও আতিয়ার ব্যাপারীর নাম জানা গেছে। তাঁদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত ফাতেমাতুজ যহুরা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একই এলাকার বশার মাতুব্বরের ছেলে জিহাদ মাতুব্বর বেশ কিছুদিন ধরে বিরক্ত করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সোমবার সকালে বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার মোহতামিম মুফতি মনির ব্যাপারী প্রতিবাদ জানান।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপক্ষে বশার মাতুব্বর, বাক্কার মাতুব্বর, আলমগীর মাতুব্বর, হাসান মাতুব্বর ও জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের লোকজন এবং অন্যপক্ষে মুফতি মনির ব্যাপারী, সবুজ ব্যাপারী, পলাশ ব্যাপারী ও আতিয়ার ব্যাপারীর লোকজন ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

প্রথমে হাতাহাতি হলেও পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গুরুতর আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আতিয়ার ব্যাপারীর ছেলে সানি ব্যাপারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আছমত মাতুব্বর বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে বাড়ি পাঠান। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম