দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। বোর্ডটির অধীনে রংপুর বিভাগের আট জেলার মোট ১৮টি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এরমধ্যে সর্বোচ্চ শূন্যে পাসের বিদ্যালয় পাঁচটিই ঠাকুরগাঁও জেলার। এরপরে কুড়িগ্রামে রয়েছে চারটি বিদ্যালয়, রংপুর, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধায় জেলায় রয়েছে দুটি করে এবং দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে একটি করে বিদ্যালয় রয়েছে।
পাস শূন্য ১৮ বিদ্যালয়ের তালিকায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ঘাসিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাগজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সদর উপজেলার পূর্ব কুমারপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এ.এম. রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও সদরের আকছা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অনভার দিঘী উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তওয়ারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাটুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বোদা সরদারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার বিষয়টি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার মান, নিয়মিত ক্লাসের অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।
এদিকে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাশের হার কমেছে। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। এক বছরের ব্যবধানে এই বোর্ডে পাশের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। চলতি বছর পাশের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ০৫। পাশের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ কমেছে। পাশাপাশি বেড়েছে শূন্য ফলাফল করা স্কুলের সংখ্যা।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, চলতি বছর এই বোর্ডে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশে। গত বছর পাশের হার ছিল ৬৭.০৩। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর পাশের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। অর্থাৎ ৭৮ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।
ফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ফলাফল কেন কমেছে, এর কারণ জানতে হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা না করে এখনই বলা সম্ভব নয়। আমরা আগে ফলাফল পর্যালোচনা করব। মোটামুটি এবার সব শিক্ষা বোর্ডেই ফলাফল কিছুটা কমেছে।

