ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বন্যপ্রাণীর হামলায় অন্তত ৫০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং একই সময়ে ৪৫টিরও বেশি বাঘ মারা গেছে।
ভারতের বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যপ্রাণীর মধ্যে বাঘের হামলায় সবচেয়ে বেশি ২২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বুনো শুয়োরের হামলায় আটজন, হাতির হামলায় সাতজন, ভালুকের হামলায় চারজন এবং চিতাবাঘের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে, সংঘাতের কারণে হওয়া ৫০টি মৃত্যুর মধ্যে ৩০টিই ঘটেছে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। এই সময়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মানুষ তেন্দুপাতা এবং মহুয়া ফুল সংগ্রহ করতে বনে প্রবেশ করায় বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হন। বাঘের হামলায় নিহত ২২ জনের মধ্যে ১৪ জন সেওনিসহ ঘন বনাঞ্চল পরিবেষ্টিত মহাকৌশল অঞ্চলে এবং সাতজন বান্ধবগড় ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় মারা যান।
ছত্তিশগড় সীমান্ত সংলগ্ন পূর্ব মধ্যপ্রদেশের জেলাগুলোতে হাতি ও ভালুকের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সরকারি তথ্য মতে, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে বন্যপ্রাণীর হামলায় রাজ্যে ৪০৬ জন নিহত ও ৫ হাজার ৮০৪ জন আহত হয়েছেন। এই সময়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্য সরকার ৮৮ দশমিক ৩৮ কোটি রুপির বেশি অর্থ প্রদান করেছে, যার মধ্যে কেবল ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই দেওয়া হয়েছে ২০ দশমিক ০৫ কোটি রুপি।
রাজ্যটিতে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১ হাজার দাঁড়িয়েছে, কিন্তু বনাঞ্চল বা বাঘের বিচরণক্ষেত্র সেই অনুপাতে বাড়েনি। অভয়ারণ্যের বাইরে আসা বাঘের সঙ্গে লোকালয় ও বনসংলগ্ন এলাকার মানুষের সংযোগের কারণে এই সংঘাত বাড়ছে।
অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৪৫টির বেশি বাঘের মৃত্যুর পেছনে প্রাকৃতিক কারণ, আঞ্চলিক লড়াই ও বয়সের পাশাপাশি বিষপ্রয়োগ, শিকার এবং সড়ক ও রেল দুর্ঘটনা দায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ২০২০ ও ২০২১ সালের ৮৮টি বাঘের মৃত্যুর কারণ অস্পষ্ট রয়ে গেছে এবং জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ মামলাগুলো নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি

