ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১০

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য মূল উৎপত্তিস্থল গোপন করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টারের ‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঠানো প্রায় ছয় হাজার কৃষি চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউরোপে যাওয়া চালানের ১৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাওয়া চালানের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ পণ্যের উৎস এসব অবৈধ বসতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রপ্তানিকারকরা মূলত তিনটি কৌশলে পণ্যের আসল উৎস গোপন করে থাকে। প্রথমত, পোস্টাল কোড উল্লেখ করলেও দেশকে ইসরায়েল হিসেবে দেখা হয়, যা শনাক্তের দায়িত্ব ইউরোপীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষের ওপর পড়ে। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলের ভেতরের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। 

তৃতীয়ত, প্যাকিং হাউসে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের পণ্যের সঙ্গে বসতির পণ্য মিশিয়ে বা ‘মিংগলিং’ করে রপ্তানি নথি প্রস্তুত করা হয়। এভাবে খুরমা খেজুর, সাইট্রাস ফল, শাকসবজি ও ভেষজ পণ্য নিয়মিত ইউরোপে পাঠানো হচ্ছে।

পণ্য বন্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নেদারল্যান্ডস অবৈধ বসতির পণ্য আমদানি ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যা ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। 

আয়ারল্যান্ড ও স্পেইন ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত বিল পাস ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে, এবং বেলজিয়ামও জাতীয় নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নভিত্তিক যৌথ পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া ফ্রান্স ও সুইডেন শুল্ক বা রফতানি লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে যৌথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউরোপীয় কমিশনকে চিঠি দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত জুলাইয়ে পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক আমদানি নিষেধাজ্ঞা, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ও লাইসেন্স ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এখনো পুরো ব্লকে সর্বসম্মত চুক্তি হয়নি। গ্লোবাল ইকো অভিযোগ করেছে, বসতির পণ্যে ইইউ-ইসরায়েল চুক্তি অনুযায়ী রেয়াতি সুবিধা নেওয়া হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে উদ্ভিদ স্বাস্থ্য ও অর্গানিক সনদের সঠিকতা লঙ্ঘিত হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

ইত্তেফাক/টিএইচ