গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার এক দম্পতিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ওই দম্পতি হলেন—উপজেলার ফাঁসিতলা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৪০) ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫)।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের রুপালী বেগম প্রসবব্যথা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বেলা ১১টার দিকে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সন্ধ্যার দিকে শিশুটির দাদি জয়গুন বেওয়া নবজাতককে কোলে নিয়ে প্রসূতি বিভাগের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় পাশের শয্যায় থাকা শেফালী বেগম নবজাতকটিকে কোলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে জয়গুন বেওয়া সরল বিশ্বাসে শিশুটিকে তার কাছে রেখে চিকিৎসকের কাছে যান।
সুযোগ বুঝে শেফালী ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলাম নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেন। চিকিৎসকের কক্ষ থেকে ফিরে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে জয়গুন বেওয়া চিৎকার শুরু করলে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা ওই দম্পতিকে প্রধান ফটকের কাছ থেকে আটক করেন। পরে তাদের কাছ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শেফালী বেগম অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রসূতি সেজে হাসপাতালে প্রবেশ করেছিলেন। গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার জানান, গ্রেপ্তারের সময় শেফালীর পেটে অতিরিক্ত কাপড় বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ব্যবহার করে তিনি নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই দম্পতি স্বীকার করেছেন যে, তারা নিঃসন্তান হওয়ায় লালন-পালনের উদ্দেশ্যেই নবজাতকটিকে চুরি করেছিলেন।
হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বহিরাগতদের প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও প্রসূতি সেজে এমন অভিনব উপায়ে চুরির চেষ্টা সাধারণ রোগীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

