সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার ও তার সহচরদের মৃত্যুদণ্ডে উৎসবের আমেজ সিরিয়ায়

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৮

গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে রায় ঘোষণার পর উৎসবের আমেজ তৈরি হয় সিরিয়ায়। রাস্তায় নেমে আসে উচ্ছ্বসিত জনতা। 

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতীয় পতাকা হাতে দামেস্কের আদালত প্রাঙ্গণে উল্লাস করেন সাধারণ নাগরিকরা। কেউ কেউ আবার উপস্থিত হয়েছেন পতিত সরকারের আমলে নির্যাতনে নিহত পরিজনের ছবি নিয়ে। চোখে মুখে যেন বহু বছরের বঞ্চনা ঘুচে যাওয়ার স্বস্তি।

রায়ের সংবাদ শোনার পর একজন সিরিয়ান বলেন, ১৪টি বছর আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারিনি। প্রথমে স্বৈরাচারের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় দেরা'র ছেলে মেয়েরা। এরপর সইতে হয়েছে যুদ্ধ আর ক্ষতবিক্ষত হওয়ার বেদনা। সিরিয়ার মানুষকে অভিনন্দন, শহীদ জননীদের শুভেচ্ছা।

গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাশার আল-আসাদ এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে দেশটির গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। অপরদিকে, নাজিবকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত করা হয়েছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০১১ সালে দেরা প্রদেশে আসাদ সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আতেফ নাজিব তার চাচাতো ভাই। তিনি সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। ২০১১ সালে আসাদের অধীনে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্রোহ এবং পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, নাজিব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং মৃত্যুদণ্ডযোগ্য নির্যাতন চালিয়েছেন। আদালত বলেছেন, তার এসব কর্মকাণ্ড ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল’।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী দামেস্কের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে সাবেক শাসক তার ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়া থেকে মস্কোতে পালিয়ে যান। তবে এ সময় নাজিব পালাতে পারেননি। ফলে তাকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই রায়টি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রথম কোনো রায়। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাফেজ আল-আসাদ এবং পরে তার পুত্র বাশার আল-আসাদ  সিরিয়া শাসন করেছেন।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্যমতে, ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশজুড়ে তাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। এরপর দেশটি ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে। এ সময় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

 

ইত্তেফাক/এনটিএম