প্রবাসে থেকেও এখন ঢাকা জেলার ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যা ও নাগরিক সেবার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ বা আবেদন জানাতে পারছেন প্রবাসীরা। ঢাকা জেলা প্রশাসনের চালু করা ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকেও এসব সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডপ্রবাসী নাজমুল হোসেন ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে তার জমি দখল-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন দেশে না থাকায় রাজধানীর গুলশান-জোয়ার সাহারা এলাকার ক্যান্টনমেন্টের মানিকদিয়ায় তার কেনা আড়াই কাঠা জমি পার্শ্ববর্তী কয়েকজন দখল করে নিয়েছেন।
নাজমুল হোসেন জানান, তিনি প্রায় ১৯ বছর ধরে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন। ২০১৮ সালে ওই এলাকায় আড়াই কাঠা জমি কেনেন। জমি কেনার পর দেশে আসতে না পারায় স্থানীয় কয়েকজন তার জমি দখল করে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আত্মীয়-স্বজনরা জমিতে গেলে তাদেরও হুমকি দেওয়া হয়। ফলে তিনি জমিটি দখলে নিতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘আমি দেশে না থাকায় আমার জায়গাটি পার্শ্ববর্তী লোকজন দখল করে নিয়েছে। পরে আমার আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে গেলে তাদেরও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। ফলে আমি জায়গাটি দখলে নিতে পারিনি। কীভাবে এর সমাধান করব, তা জানতে চাচ্ছিলাম। তখন জানতে পারি, হ্যালো ডিসি অ্যাপের মাধ্যমে এ বিষয়ে আবেদন করা যায়।’
পরে তিনি অ্যাপটি ডাউনলোড করে অভিযোগ জানান। আবেদন করার পর ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিকারের জন্য ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর আওতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর আইন অনুযায়ী শুনানি গ্রহণ করে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নাজমুল হোসেন বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকেও এভাবে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের সমস্যার কথা জানানো এবং প্রতিকারের পথ জানা যায়—এটি আমার জন্য খুবই উপকারী হয়েছে।’
ঢাকা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীরাও জমি, ভূমি, সরকারি সেবা ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে সহজেই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। এতে প্রবাসীদের জন্য ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপটি দূরত্ব কমিয়ে সরকারি সেবা পাওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, ‘প্রবাসীরা আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকায় অনেক সময় নিজেদের জমিজমা বা অন্যান্য নাগরিক সেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা হ্যালো ডিসি সেবাকে আরও জনবান্ধব ও সহজলভ্য করার চেষ্টা করছি। দেশের বাইরে থেকেও যেন একজন প্রবাসী তার সমস্যার কথা আমাদের জানাতে পারেন এবং যথাযথ প্রতিকার পাওয়ার পথ জানতে পারেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’

