ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জোড়া লাগা জমজ দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। তিন মাস বয়সী শিশু দুটির নাম মোছাম্মৎ জয়নব ও মোছাম্মৎ উম্মে কুলসুম। বুধবার (১২ আগস্ট)বিকেলে শিশু দুটির মৃত্যু হয়।
গতকাল রাতে ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিশু দুটির হার্ট ছিল একটি। সেটিও ছিল ফুটো। যার ফলে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাথুয়া গ্রামের নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির সন্তান জয়নব ও উম্মে কুলসুম। গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকেই শিশু দুটি বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগানো অবস্থায় ছিল।
তবে আর্থিক সংকটের কারণে একপর্যায়ে তাদের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে শিশু দুটির চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহনের নির্দেশ দেন। এরপর ৯ আগস্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিবারটির সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাদের ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করেন। পরদিন তাদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পর শিশু দুটিকে আলাদা করার সম্ভাবনা যাচাইয়ে চিকিৎসকরা বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকালে তাদের মৃত্যু হয়।
গত সোমবার রাত আটটার দিকে শিশু দুটিকে ঢামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই তাদের দেখতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারি খরচে শিশু দুটির চিকিৎসা করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, শিশু দুটির চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে পরিকল্পনা করা হবে। প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে চিকিৎসক বোর্ড গঠন করার কথাও বলা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মধ্যেই শিশু দুটির মৃত্যু হলো।
শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছিল। চিকিৎসকরাও অনেক চেষ্টা করেছেন। আমরা আশা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমার দুই সন্তানকে তুলে নিলেন।
তিনি জানান, শিশু দুটির মরদেহ নিয়ে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

