১৭ কর্মকর্তার মধ্যে ১২ কর্মকর্তার শূন্যপদ সহ ৪৯০ পদের শূন্যতা নিয়ে ৪ লক্ষাধিক জনবসতির চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চলছে ঢিমেতাল। উপজেলা পরিষদের ৮ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বের কর্মকর্তা ও ২ পদে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এছাড়ও উপজেলা পরিষদের ১৭ দপ্তরে ৪৯০ পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘ্যদিন যাবৎ। আর উপজেলার ১৭ কর্মকর্তার বিপরীতে আছে মাত্র ৬ কর্মকর্তা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের যে ১২ কর্মকর্তার পদ শূন্য সেই পদগুলো হলো- সহকারী কমিশনার (ভূমি), সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, আইসিটি কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, বনকর্মকর্তা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।
তবে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এখানে নিয়োগ থাকলেও জেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকার কারণে তিনি জেলাতেই বসেন। মতলব উত্তরে দাপ্তরিক কাজে উনি স্বাক্ষর করেন মাত্র।
তবে ৮ জন কর্মকর্তা অন্য উপজেলায় নিয়োগ থাকলেও এ উপজেলায় অতিরিক্তের দায়িত্বের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তু এই কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্বের মতলব উত্তর উপজেলায় কখনো সপ্তাহে ১দিন আসেন, কোন কোন সপ্তাহে ১দিনও আসেন না। যাই আসেন, অনেকাংশে দায়িত্ব পালন শুধু কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
অন্যদিকে, উপজেলায় ২ জন কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দীর্ঘদিন পদশূন্য রয়েছে, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ১৫ জন প্রধান শিক্ষক, ১২০ জন সহকারী শিক্ষক সহ এ বিভাগের ১৭৫ পদ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ৩ জন সহকারী শিক্ষা অফিসার, ১১৭ প্রধান শিক্ষক, ২৯ সহকারী শিক্ষক সহ এ বিভাগে শূন্য মোট ১৪৬ পদ, ৮ জন ডাক্তার সহ স্বাস্থ্য বিভাগের শূন্য পদ ৬১টি, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা এবং এ বিভাগের ২৩ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সহ এ বিভাগের ২৫ পদ, এসিল্যান্ড সহ ভূমি অফিসের ১১ জন ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা সহ এ বিভাগের শূন্য পদ ২৪টি, উপজেলা প্রকৌশল (এলজিইডি) বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার, হিসাব রক্ষক সহ এ বিভাগের ১১ পদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা সহ এ বিভাগের শূন্য পদ ৮টি, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সহ এ বিভাগের ৬ পদ, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সহ ২ কর্সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা সহ এ বিভাগের ৫ পদ, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সহ এ বিভাগের ৫ পদ, খোদ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ২ পদে ডেপুটেশন সহ এ বিভাগে ৪ পদ, ভেটেনারী সার্জন, উপসহকারী প্রানীসম্পদ অফিসার সহ প্রাণিসম্পদ বিভাগে শূন্যপদ ৪টি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সহ এই বিভাগের ৩ পদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের শূন্য পদ ৩টি, খাদ্য বিভাগের শূন্য পদ ২টি, সমবায়, মহিলা বিষয়ক ও নির্বাচন বিভাগে পদ ১টি করে শূন্য এবং ৫টি ইউনিয়ন পরিষদে সচিবের পদও শুন্য রয়েছে।
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, শিক্ষা অফিসার, ৩ জন সহকারী শিক্ষা অফিসার ও ১১৭ জন প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকাংশেই ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড়ের বাহেরচর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবানিতে আসা এক গর্ভবতী মা আলেয়া বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, চরের তিগা (থেকে) আমার ভাই আমারে এই হাসপাতাল লইয়া আইছে ডাক্তর (ডাক্তার) দেহাইতে। এনো (এখান) আইয়া জানলাম এই হাসপাতালে নাকি গর্ভবতী মা'গো চিকিৎসার কোন ডাক্তরই নাই। আমরা গরীব মানুষ, অহন ডাক্তর হেহাইতে আমরা কই যামু কন?
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরে সেবানিতে আসা কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, এই ম্যাডামের কাছে যহনই কাজে আই তখনই শুনি উনি চাঁদপুরে।
এ বিষয়ে কথা হলে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, এই উপজেলা পরিষদে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় উপজেলার নাগরিক সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকাংশে বিঘ্নিত।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, এত পদ শূন্যতার কারণে তো কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হবেই। তবে, এতো শূন্যতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছি। এমপি মহোদের সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে, আশা করি এই সমস্যার অচিরেই একটি সমাধান হবে।

