মিয়ানমারে ফিরছে সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৯

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পাশবিক নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অবশেষে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার সরকার। আগামী ২২ আগস্ট প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক। তবে প্রত্যাবাসন নিয়ে কতিপয় রোহিঙ্গা নেতাকে দ্বিমত পোষণ করতে দেখা গেছে। তারা বলছেন, তাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিলে তারা স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরে যাবেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা নেতা ডা. ফয়সাল আনোয়ার ও ডা. জাফর আলমের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের পর মিয়ানমার সরকার নমনীয় হয়েছে। যে কারণে এদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদত্ত ২২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার তালিকা যাচাইবাছাই করে ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গাকে আগামী ২২ আগস্ট ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, সম্প্র্রতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  মিন্ট টু এর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল উপর্যুপরি দুই দিন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং রোহিঙ্গা নর-নারীর সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বস্ত করে মিয়ানমারে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন।

এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর ২৫০ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও রোহিঙ্গাদের অনীহার কারণে প্রত্যাবাসন হয়নি।

ইউএনএইচসিআর কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার সে দেশে পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি বিধায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়নি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির আহ্বায়ক উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের স্থানীয়রা যতদূর সম্ভব ভ্রাতৃত্ববোধ দেখিয়েছেন। এখন তারা নিজ দেশে ফিরে গেলে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রত্যাবাসনের বিষয়টি তিনি গণমাধ্যম সূত্রে জেনেছেন। তবে প্রত্যাবাসন নিয়ে আজ রবিবার কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালামের কর্যালয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসন জানান, ছোট্ট পরিসরে নতুন করে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। বাংলাদেশ একটি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাসম্পন্ন ও টেকসই প্রত্যাবাসন আশা করে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরো প্রায় ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে। ২০১৭ সালে আসা রোহিঙ্গাসহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।