ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অগ্নিবীর’ প্রকল্পে নেপালি তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে নেপালে। শুক্রবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় পর্যটন শহর পোখারায় এ আন্দোলন শুরু হয়।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোর্খা রেজিমেন্টের সাবেক নেপালি সেনা কর্মকর্তারা। আগামী ১৬ আগস্ট ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান ধীরাজ শেঠ সরকারি সফরে পোখারা যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর সফরকে সামনে রেখে তরুণদের পক্ষ থেকে এ দাবি তোলা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, অগ্নিবীর প্রকল্পে নেপালি তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং দ্রুত নেপালে এ প্রকল্পের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
নেপালি নাগরিকদের জন্য ভারত ও যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন ধরে গোর্খা রেজিমেন্ট রয়েছে। ব্রিটিশ শাসনামলে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এ রেজিমেন্ট গঠিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ভারত, যুক্তরাজ্য ও নেপাল গোর্খা সেনাদের নিয়োগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে।
বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সাতটি গোর্খা রেজিমেন্টের ৩৯টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীতেও নেপালি গোর্খা সেনারা কর্মরত রয়েছেন।
তবে ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোর্খা রেজিমেন্টে নেপালি নাগরিকদের নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সেই নিয়োগ পুনরায় শুরু হয়নি।
এদিকে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ২০২২ সালে ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প চালু করা হয়। এর আওতায় ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণসহ চার বছর কাজ করতে হয়। চার বছর শেষে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনীতে রাখার বিধান রয়েছে। বাকিদের ‘সেবা নিধি’ প্যাকেজের আওতায় এককালীন অর্থ দিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
নেপালি তরুণদের দাবি, অগ্নিবীর প্রকল্পে নেপালকেও অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তবে নেপাল সরকার এ দাবির সঙ্গে একমত নয়।
কাঠমান্ডুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অগ্নিবীর প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়োগ ১৯৪৭ সালে নেপাল, ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে হওয়া ত্রিপক্ষীয় চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি

