গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:০৬

দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরেছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর দেশে ফিরলেন ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর সড়কের পাশে জড়ো হওয়া শত শত সমর্থককে হাত নেড়ে ও হাসিমুখে অভিবাদন জানান দেউবা। তার নিরাপত্তায় বিমানবন্দর ও সমর্থকদের সঙ্গে আয়োজিত সমাবেশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

Nepal's ex-PM Deuba returns home to face graft probe - TRT World

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় দেউবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি মানি লন্ডারিং তদন্ত বিভাগ পরিচালনা করছে।

অর্থ পাচারের অভিযোগে গত এপ্রিলে দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নেপাল পুলিশ। জেন-জি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর দেশের অন্যতম হেভিওয়েট এই রাজনীতিককে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য নেপাল ছাড়েন দেউবা। এরপর থেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাঁচবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) থেকে শুরু হতে যাওয়া তার দলের তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

দেউবার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তরুণদের ভোটে বালেন্দ্র শাহর বিপুল জয়ের এক মাস পর এই পরোয়ানা জারি হয়।

ক্ষমতায় আসার পর শাহ প্রশাসন হেভিওয়েট রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। ২০২৫ সালের বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগে গত মার্চে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও অল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত নেপালের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দেয়, যার জেরে সরকারের পতন হয়। এ সময় দেউবার বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয় এবং এই দম্পতির ওপর হামলার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

দেউবার বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থও উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিশনের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এসব ভিডিওকে ভুয়া ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন, যদিও এর নেপথ্যে কারা জড়িত তা তিনি জানেন না বলে জানান। কমিশন দেউবার সম্পত্তি থেকে কথিত অর্থ উদ্ধার নিয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ