শিল্প সচিব

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ড দুর্ঘটনা: গাফিলতি পেলে দ্রুত ব্যবস্থা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় কারও অবহেলা বা গাফিলতি পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শিল্প সচিব জানান, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে থাকা জাহাজে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। জাহাজে থাকা গ্যাস কীভাবে নিরাপদে অপসারণ করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং জাহাজ ভাঙা শিল্প মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে শিল্প সচিবের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় বা অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশও দেবে কমিটি।

এ ছাড়া দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছিল কি না, উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা অদক্ষতা ছিল কি না এবং সেখানে জরুরি সাড়াদানকারী দল ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

শিল্প সচিব বলেন, ‘আমরা দেখছি কেন ঘটনাটা ঘটল। যদি এখানে কারও কোনো অবহেলা থেকে থাকে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে।’

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ইয়ার্ডটি কমপ্লায়েন্স ইয়ার্ড হিসেবে পরিচালিত হয় এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিরীক্ষা করা হয়েছিল। এরপরও কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, সেটিই এখন তদন্তের বিষয়।

নিহত শ্রমিকদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শিল্প সচিব বলেন, আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে পুরোনো একটি জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৯ শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরও সাতজন।

ইত্তেফাক/এমএএম