১৫ আগস্টের খিচুড়ি রান্না হচ্ছে সন্দেহে ছয় রিকশাচালক আটক

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫

ফরিদপুরে জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন উপলক্ষে খিচুড়ি রান্নার আয়োজনকে ঘিরে ছয় রিকশাশ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির অংশ হিসেবে খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছে-এমন সন্দেহে পুলিশ তাদের আটক করে বলে অভিযোগ শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের।

তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক শ্রমিকদের নিরীহ রিকশাচালক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ। তবে শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আটকের প্রায় ৩০ ঘণ্টা পরও তাদের ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার গারদে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

আটক শ্রমিকরা হলেন—হারুন শেখ (৫৪), মজিদ শেখ (৫৬), আনোয়ার মোল্লা (৫১), মানোয়ার মোল্লা (৪৮), ইউসুফ শেখ (৪৫) ও তাঁর ছেলে রহিম শেখ (২৩)।

শ্রমিক সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে ফরিদপুর জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করা হয়। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক আঞ্চলিক শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার, তিতুমীর বাজার, ভাসানচর, অম্বিকাপুর ও আলীপুরে আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের ধুলদী রেলগেটসংলগ্ন বাজারে আঞ্চলিক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। এ উপলক্ষে শ্রমিকরা খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন।

শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৫ আগস্টের শোক দিবস পালনের অংশ হিসেবে খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছে—এমন সন্দেহে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ ধুলদী বাজারে অভিযান চালিয়ে ওই ছয় রিকশাশ্রমিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ফরিদপুর জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের সংগঠনটি রাজনৈতিকমুক্ত একটি সংগঠন। পুলিশ আমাদের ছয়জন শ্রমিককে অন্যায়ভাবে আটক করে রেখেছে। পুলিশ বলেছিল, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ৩০ ঘণ্টা পার হলেও এখনো আটক শ্রমিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শ্রমিকদের থানায় আনা হয়েছিল। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে দেখা গেছে, তাঁরা সবাই নিরীহ রিকশাচালক। তাঁদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি