নেত্রকোনার খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জ উপজেলার ধনু নদপাড়ের তিন গ্রামে এক রাতেই ১২টি গরু চুরির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে খালিয়াজুরীর চাকুয়া ইউনিয়নের হারারকান্দি ও সুলতানপুর এবং মোহনগঞ্জের গাগলজুর ইউনিয়নের মান্দারোয়া গ্রামে এসব চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীর দুই গ্রামে চার কৃষকের নয়টি এবং মোহনগঞ্জের এক কৃষকের তিনটি গরু চুরি হয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
হারারকান্দি গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, তাঁর বসতঘর ও গোয়ালঘর পাকা। চোরেরা রাতে বসতঘরের সামনের ও পেছনের দরজা রশি দিয়ে বেঁধে দেয়। এরপর গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তিনটি গরু নিয়ে যায়।
একই গ্রামের কৃষক হায়দার হোসেন বলেন, গতরাতে গোয়ালঘরের দরজার বাঁধন কেটে দুটি গরু নিয়ে গেছে চোরেরা। গোয়ালে মোট ৭টি গরু ছিল। বাঁধন কেটে দেওয়ায় অন্য গরুগুলো গোয়াল বের হয়ে যাওয়ায় সেগুলো আর নিতে পারেনি।
সুলতানপুর গ্রামের সিরাজ মিয়া জানান, একই রাতে তার গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি হয়েছে। একই গ্রামের শামসু মিয়ার গোয়ালঘর থেকেও একটি গাভি নিয়ে গেছে চোরেরা।
চাকুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফজলু মিয়া জানান, হারারকান্দি গ্রামের কৃষকদের পাঁচটি এবং সুলতানপুর এলাকার চারটি গরু চুরির বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়িকেও জানানো হয়েছে। তবে এখনো ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ফাঁড়ির ইনচার্জ জানিয়েছেন, সেখানে সাধারণ ডায়েরি করা হয় না। জিডি করতে হলে খালিয়াজুরী থানায় যেতে হবে বলে জানান তিনি।
লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, গরুর মালিকেরা ফাঁড়িতে এসে জিডি করতে চেয়েছিলেন। তাদের খালিয়াজুরী থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরু চুরির খবর জানার পর লেপসিয়া ফাঁড়ির পুলিশকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা থানায় এলে তাদের অভিযোগ নেওয়া হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, একই রাতে মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলজুর ইউনিয়নের মান্দারোয়া গ্রামের কৃষক সুরে আলমের তিনটি গরুও চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বিকেলে মোহনগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, গরু চুরির ঘটনায় একজন কৃষক অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা গুলজার মিয়া বলেন, যে গ্রামগুলোতে একই রাতে গরু চুরি হয়েছে, সেগুলো সবই ধনু নদের পাড়ঘেঁষা। তাঁর ভাষ্য, বর্ষাকালে চোরেরা নদের পাড়ের গ্রামগুলো থেকে গরু চুরি করে ট্রলারে করে নিয়ে যায়।
গরু চুরি ঠেকাতে কৃষকদের সতর্ক থেকে পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানও প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

