ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এক টেস্ট জয় সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। সাড়ে তিন দিনে শেষ হওয়া এই ম্যাচে ব্যাটে-বলে রীতিমতো অসহায় ছিল অজিরা। এমন বিপর্যয়ের পর অস্ট্রেলিয়া দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফরা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। খোদ প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও নিজেদের ব্যর্থতা ও দলের বেহাল দশা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন।
ডারউইন টেস্টের শুরু থেকেই দাপট ছিল বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে অজিরা মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেলে প্রথম ইনিংসেই ২২৬ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বাগতিকরা ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান, যা ১ উইকেট হারিয়েই টপকে যায় সফরকারীরা। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতার স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আমরা এই টেস্টে অত্যন্ত নিম্নমানের ক্রিকেট খেলেছি। এমন কন্ডিশনে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০০ রানের নিচে স্কোর করার অর্থ হলো—আমাদের অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। এটা মেনে নেওয়া কঠিন যে আমরা আমাদের মান ধরে রাখতে পারিনি।’
অস্ট্রেলিয়ার এই নজিরবিহীন হারের পর সে দেশের ক্রিকেট মহলে পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে। কিংবদন্তি ক্রিকেটার রিকি পন্টিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের ওপেনিং ও তিন নম্বর পজিশনে নতুনদের জায়গা দেওয়া প্রয়োজন। অনেক সাবেক ক্রিকেটারও মনে করছেন, অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়ার এখনই সময়। উল্লেখ্য, এই ম্যাচে খেলা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে কেবল ক্যামেরন গ্রিন বাদে সবার বয়স ছিল ৩০-এর ঊর্ধ্বে।
আগামী এক বছরে ২০টি টেস্টের ব্যস্ত সূচি রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। এই দীর্ঘ পথচলার আগে দলে কোনো বড় রদবদল আসবে কি না, তা নিয়ে চলছে গুঞ্জন। পরিবর্তনের দাবি প্রসঙ্গে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘দলের বয়স ও ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। জয় পেলেও অনেকে পরিবর্তনের কথা তোলেন, সেখানে এমন হারের পর তা বলাই বাহুল্য। আমি সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। তবে আমি বিশ্বাস করি, এই খেলোয়াড়দের আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে।’
মূলত ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পরিকল্পিত আক্রমণের মুখে খেই হারিয়ে ফেলে অজিরা। ঐতিহাসিক এই জয়ের ফলে বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামর্থ্য নতুন করে প্রমাণিত হলো, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট কাঠামো ও ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

