দেশে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে দেশব্যাপী চলছে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চিত্র ভিন্ন।
সেখানে খালের বুকে অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের জন্য পোঁতা হয়েছে পিলার। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানিপ্রবাহ। হুমকির মুখে পড়েছে যাচ্ছে কৃষিকাজ। এ কাজটি করছে এন মোহাম্মদ নামের একটি প্লাস্টিক কারখানা। নিজেদের কারখানায় যাতায়াতের সুবিধার জন্য তারা এ কাজ করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় আরাকান সড়ক সংলগ্ন এন. মোহাম্মদ প্লাস্টিক কারখানার বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) এর নিয়মনীতি অমান্য করে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি অনুমতি ছাড়াই সড়কের জায়গা দখল করে যাত্রী ছাউনি এবং অপ্রোচ রোড নির্মাণের ফলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, যানজটসহ নানা ধরনের জনভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পশ্চিম গোমদন্ডী এলাকার সাধারণ জনগণকে।
আরাকান সড়কের পাশে সওজ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া স্থান দখল করে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ প্রায় অর্ধেক সম্পূর্ণ করেছে কারখানাটির কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, এই যাত্রী ছাউনি সাধারণ যাত্রীদের চেয়ে কারখানার শ্রমিকদের ব্যবহারের জন্য তেরি করা হচ্ছে।
কালভার্ট নির্মাণে ফলে রাইখালী খালের পানি স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শুধু মাত্র পৌর প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। কালভার্ট নির্মাণের ব্যাপারে সওজ এর সাথে পৌর প্রশাসক সমন্বয়হীনতার অভাবে বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত সরতে না পেরে পশ্চিম গোমদন্ডী এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
কালভার্ট নির্মাণ ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণের ব্যাপারে জানতে চাইলে বোয়ালখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা জানান, যাত্রী ছাউনি নির্মাণের ব্যাপারে কোনো অনুমতি প্রদান করা হয়নি তবে ব্রীজ নির্মাণের জন্য পৌরসভায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউএন স্যারের নির্দেশে খাল প্রশস্ততা ঠিক রেখে ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। সওজ থেকে অনুমতি নেয়নি জানিয়ে সওজ আমাদের কাছে চিঠি দিয়েছিল তাই আমরা কাজটি বন্ধ করে রেখেছি। কালভার্ট নির্মাণের ব্যাপারটি পৌরসভার দায়িত্ব তবে সড়কের এপ্রোচ ঠিক আছে কিনা সেটা সওজ দেখবে।
সওজ এর চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক কারখানা থেকে আমাদের কাছে অনুমতির জন্য দুইবার আবেদন করেছে কিনতু আমরা এপ্রোচ সড়ক কিংবা যাত্রী ছাউনির জন্য কোন অনুমোদন দেয়নি। আমাদের থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে এখন কাজ বন্ধ করে রেখেছে পৌর প্রশাসন ।
তিনি আরও বলেন, এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক কারখানা কার্যক্রমের মধ্যে ফাঁক-ফোঁকর রয়েছে, তারা ড্রয়িং ডিজাইন পর্যন্ত অনুমোদন নিয়েছে পৌরসভা থেকে। তারা জানতো না পৌরসভার পাশাপাশি আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার কিছু বিষয় রয়েছে।
সরু খালের উপর কালভার্ট কিংবা যাত্রী ছাউনি নির্মাণের ফলে পরিবেশের ক্ষতি হবে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান জানান, সরোজমিনে গিয়ে দেখতে হবে কারখানাটি কালভার্ট ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করেছে কিনা তখন বলা যাবে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এন মোহাম্মদ প্লাস্টিকের মালিক নজরুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও, কারখানাটির বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূত আচরণ ও একাধিক শ্রমিক অসন্তোষ এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারী কারখানাটিতে সরকার নির্ধারিত কর্মঘন্টা না মানা, অতিরিক্ত কাজের সঠিক ওভারটাম না দেওয়া এবং উৎসব বোনাস নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে নিয়মিত ক্ষোভ দেখা যায়। সেদিন ১৩ দফার দাবিতে কারখানার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে শ্রমিকেরা। অনিয়ম ও শ্রমিক অসন্তোষের খবর সংগ্রহ করতে গেলে কারখানার ভেতরে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপরে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

