ঝিনাইদহের মহেশপুরে তিন মাস ধরে হাঁটুসমান কাদা-পানিতে বেঁধে রাখা চারটি মহিষকে শুকনা জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মহিষগুলোর জন্য নতুন ঘর তৈরির কাজও শুরু করেছেন মালিক আবদুল আলিম। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কাদা থেকে মহিষগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে।
মহেশপুর উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে আবদুল আলিমের চারটি মহিষ দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশে কাদার মধ্যে বাঁধা ছিল। বিষয়টি স্থানীয় পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসানের নজরে এলে তিনি মহিষগুলোর ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে বিষয়টি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেনের নজরে আসে।
গত রোববার (১৬ আগস্ট) ইউএনও আবদুল আলিমের বাড়িতে গিয়ে মহিষ চারটিকে কাদা থেকে সরিয়ে বাড়ির পাশে উঁচু শুকনা জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করেন। এ সময় আবদুল আলিম বাড়িতে ছিলেন না। তার পরিবারের সদস্যদের ১৫ দিনের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য ভালো জায়গা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন ইউএনও।
মঙ্গলবার সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মহিষগুলো শুকনা জায়গায় রাখা হয়েছে। মালিক খাবার দিচ্ছেন এবং সেগুলোর যত্ন নিচ্ছেন। পাশেই মহিষের জন্য নতুন ঘর তৈরির কাজ চলছে।
মহিষগুলোকে তিন মাস কাদার মধ্যে রাখার কারণ জানতে চাইলে আবদুল আলিম বলেন, বর্ষার কারণে বাড়ির বাইরে মহিষ নিয়ে যেতে পারছিলেন না। এ ছাড়া আশপাশের মাঠে ফসল চাষ হওয়ায় জমির মালিকেরা মহিষ চরাতে আপত্তি করতেন। ফলে বাড়িতে রেখেই খাবার দিতে হচ্ছিল। মহিষগুলো দীর্ঘদিন হাঁটাচলা করায় শুকনা জায়গাটিও কাদায় পরিণত হয়।
তিনি বলেন, মহিষ রাখার জন্য আগে একটি ঘর ছিল। তবে সেটি তার বোনের জায়গায় হওয়ায় ছেড়ে দিতে হয়েছে। বাড়িতে নতুন ঘর করার মতো জায়গাও ছিল না। এখন বোনের জায়গা কিনে নিয়ে সেখানে মহিষের জন্য নতুন ঘর তৈরি করছেন। ইউএনওর নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তিনি।
আবদুল আলিম জানান, বর্তমানে মহিষ পালন করেই তিনি সংসার চালান। তার ছেলে বিদেশে থাকেন এবং মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। মেয়ের জামাইকে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। মহিষগুলো বড় করে বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধের আশা করছেন।
মহেশপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, চারটি মহিষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে মহিষগুলোর অবস্থা ভালো। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভিটামিন দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মহিষগুলো এখন শুকনা জায়গায় রাখা হয়েছে এবং মালিককে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে মহিষগুলোর নিয়মিত খোঁজখবরও নেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসান বলেন, মহিষগুলোর জন্য নতুন ঘর তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। দ্রুত ঘর নির্মাণ শেষ হলে মহিষগুলোর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

