মহাখালীতে কিশোরীর আত্মহ/ত্যা

বাসায় সাবলেট নিয়ে করা হতো দিনের পর দিন ধর্ষণ-ব্ল্যাকমেইল

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩:২১

রাজধানীর মহাখালীতে ১৩ বছরের কিশোরী সিমির আত্মহত্যার ঘটনায় একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। পরিবারের অভিযোগ, বাসায় সাবলেট থাকা এক দম্পতি জোরপূর্বক মাদক সেবন করিয়ে সিমিকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ এবং পরে ব্ল্যাকমেইল করতেন। মৃত্যুর আগে সিমি তার মা ও এক স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে বনানী থানায় গিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের। তবে পুলিশ বলছে, সিমির মৃত্যুর আগে এমন কোনো অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি।

গত ১৫ জুলাই মহাখালীতে নিজ বাসায় আত্মহত্যা করে সিমি। মায়ের সঙ্গে একটি ভবনের ষষ্ঠ তলায় থাকত সে। পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাড়ির ম্যানেজারের মাধ্যমে দুই সন্তানসহ সাইদুর ও টুম্পা দম্পতি ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠেন। এরপর থেকেই সিমির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তার মা।

সিমির মা জানান, সাবলেট দেওয়ার পর দম্পতির বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় জানতে পারেন তিনি। তারা ১ মে বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর ঘর থেকে টাকা খোয়া যেতে শুরু করে। পরে স্বজনদের চাপের মুখে সিমি জানায়, তাকে হুমকি দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে সিমি তার মা ও এক স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে বনানী থানায় যায়। সেখানে ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিষয়ে পুলিশকে বিস্তারিত জানানো হয়।

সিমির মা বলেন, ‘বনানী থানায় নিয়ে যাওয়ার পর মেয়ে সবকিছু খুলে বলে এবং নির্যাতনের কথাও জানায়। পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি বিস্তারিত শোনেন। এরপর অভিযুক্তের ছবি দেখালে তিনি পরদিন থানায় আসতে বলেন। তবে পরদিন আমি ফোন করে জানতে চাইলে তারা যেতে মানা করে।’

তবে পরিবারের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বনানী থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। মুঠোফোনে তারা জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে সিমির মৃত্যুর আগে তার থানায় উপস্থিতি এবং মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, ১ মে বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে সাইদুর ও টুম্পা দম্পতির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো তথ্য যাচাই না করেই বাড়ির ম্যানেজার তাদের সাবলেট হিসেবে বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন।

সিমির মৃত্যুর ঘটনায় এখনো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে কিশোরীর মৃত্যুর আগে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ জানানো হয়েছিল কি না, জানানো হয়ে থাকলে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং অভিযুক্ত দম্পতি কোথায়—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

সূত্র: যমুনা টিভি

ইত্তেফাক/এসএ