খুলনার তেরখাদা থেকে ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতে আসেন কামরুল ও আল-আমিন। কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আল-আমিন সবজি কাটার ছুরি দিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
হদিসবিহীন এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পিবিআই দাবি করেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা।
নিহত মো. কামরুল খান (৪৪) খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত এলাকার মৃত করিম খানের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল–আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তের বরাতে সংস্থাটি জানিয়েছে, কামরুল ও আল-আমিন খুলনার তেরখাদার বাসিন্দা। একই এলাকার হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তাঁরা ঘনিষ্ঠ। কাজের সন্ধানে ৮ আগস্ট তারা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় এসে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দেন।
পিবিআইয়ের দাবি, ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার ছুরি নিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করতে উদ্যত হলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় আল-আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান আল-আমিন।
এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দীন। একই দিনে খুলনার তেরখাদা থানা এলাকা থেকে আসামি মো. আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আল-আমিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই জানায়, ১৬ আগস্ট আশুলিয়া থানার বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে আমির আলীর ভাড়া দেওয়া একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক তাহেরুন্নেসা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ কক্ষটির তালা ভেঙে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির পচন ধরা গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে।
হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি বাথরুমের প্যানের ভেতর রেখে খুলনায় পালিয়ে যায় আল-আমিন। তার কাছ থেকে নিহত কামরুলের মোবাইল ফোন ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই।

