জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলিতে নিহত হন তরুণ শাহরিয়ার হোসেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করলেও মৃত্যু সনদপত্র দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি একটি সাদা কাপড়ে মরদেহ ঢেকে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে পথিমধ্যে কাউকে গুলির বিষয়টি জানাতেও নিষেধ করেছিলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এভাবেই সেদিনের মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন নিহতের বাবা মো. মনির হোসেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি পেশ করেন মনির হোসেন। মোহাম্মদপুর এলাকার ক্ষুদ্র কাঁচামাল ব্যবসায়ী মনির হোসেনের বড় সন্তান ছিলেন জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন।
আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মনির হোসেন উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে গণ-আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন শাহরিয়ার। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা গুলিবর্ষণ করে। পরে তার দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্থানান্তর করা হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগকে সরাসরি দায়ী করেন মনির হোসেন। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তিনি দায়ী করেন।
ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকার এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ২৮ জন। তাদের মধ্যে বর্তমানে চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।
অন্যদিকে মামলার সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৪ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্যান্য আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকতসহ আরও অনেকে।

