‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই’

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩০

একাধিক বিয়ে, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ‘হানি ট্র্যাপ’ বা ব্ল্যাকমেইল, অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং নানা ধরনের প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নাছরুম আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও আইনি প্রতিকার চেয়ে জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আবুল বাশার।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দায়ের করা অভিযোগে মৃত প্রবাসী সাইফুল ইসলাম মাসুমের বাবা আবুল বাশার উল্লেখ করেন, তার ছেলেকে আপত্তিকর ভিডিওর ফাঁদে ফেলে ও ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করতে বাধ্য করেন নাছরুম আক্তার। পরবর্তীতে প্রবাসীর টাকায় জমি কেনার কথা বলে কৌশলে নিজের নামে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন ওই নারী।

অভিযোগে আরও জানানো হয়, গত ১৩ এপ্রিল সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মাসুম মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পরও নাছরুম আক্তার ওই পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ অব্যাহত রাখেন এবং একপর্যায়ে ঘর থেকে বিপুল স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে যান। এ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার আগেই ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিল।

আবুল বাশার জানান, বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুমকে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়েছিল। তবে গত ১৮ আগস্ট তিনি তার ভগ্নিপতি নয়নসহ কয়েকজন বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার চালান। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে পরিবারটি জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের দ্বারস্থ হয়।

অভিযোগপত্রে বিয়ের নথিপত্র জালিয়াতির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, নাছরুম আক্তার শুরুতে অ্যাডভোকেট নওশেদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি হলফনামা দেখিয়ে মাসুমের সঙ্গে বিয়ের দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে যাচাই করতে গিয়ে জানা যায়, ওই আইনজীবী এমন কোনো হলফনামা দেননি এবং তিনি লিখিতভাবে তা অস্বীকার করেছেন। এরপর শাহমাহমুদপুর এলাকার এক কাজির স্বাক্ষর করা একটি কাবিননামা হাজির করা হলেও সংশ্লিষ্ট কাজি লিখিত প্রত্যয়ন দিয়ে জানিয়েছেন যে ওই কাবিনটি রেজিস্ট্রিভুক্ত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে ফরিদ নামের এক যুবককে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ের পর তার কাছ থেকে ফার্নিচার, স্বর্ণালংকার ও এফডিআরের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া মাইনুদ্দিন, খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম মন্টু ও সাগর নামের ব্যক্তিদের সঙ্গেও বিয়ের নাটক সাজিয়ে প্রতারণা ও কাবিনের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, যদিও এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি।

সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নিজের একাধিক বিয়ের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন নাছরুম আক্তার। তবে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।’

বর্তমানে নিজেকে মৃত মাসুমের বৈধ স্ত্রী দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাসুমের স্ত্রী। মাসুমের বাড়িতেই তিন বছর ধরে সংসার করছি। মাসুম মারা গেছে, তাতে সমস্যা নেই। আমি ওই বাড়িতেই থাকব।’

এদিকে প্রতারণা ও ক্রমাগত মানসিক হয়রানি থেকে সুরক্ষা পেতে এবং সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ আইনি প্রতিকারের জোর দাবি জানিয়েছেন নিহত প্রবাসীর বাবা আবুল বাশার ও তাঁর স্বজনরা।

ইত্তেফাক/এএম