নাব্যতা ফিরিয়ে আদি বুড়িগঙ্গাকে সাজানোর উদ্যোগ

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৭

দখল ও বর্জ্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া রাজধানীর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

চ্যানেলটি পরিষ্কার করার পাশাপাশি এর হারানো নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট থেকে স্বস্তি পাবেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে এর পূর্বের রূপ ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় চ্যানেলটি দখল ও দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নাব্যতা পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ দূরানী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায়। দীর্ঘদিন দখল, বর্জ্য ফেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে চ্যানেলের বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব। সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ধীরে ধীরে ব্যাহত হতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন অংশে দখল ও বর্জ্য জমে যাওয়ার সমস্যা। ফলে একসময় চ্যানেলটির পরিবেশগত গুরুত্ব অনেকটাই হারিয়ে যায়। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।

এবার চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় চ্যানেল ও আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন এবং জনসাধারণের হাঁটা ও অবসর কাটানোর জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা অপরিহার্য। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল পাবেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চ্যানেল পরিষ্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এটি পুনরায় দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার, সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। হারানো জলপ্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এটি রাজধানীর একটি নান্দনিক ও জনবান্ধব জলাধারে পরিণত হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম