যে কোনো উত্সবে নারীর আজও প্রথম পছন্দ জামদানি শাড়ি। জামদানি মূলত ফারসি শব্দ। জাম অর্থ ফুল আর দানি হচ্ছে ধারক। অর্থাত্, ফুল সজ্জিত থাকে যে দানিতে। এমনই এক সুন্দর অর্থ বহন করছে জামদানি শাড়ি। খ্রিষ্টাব্দ তৃতীয় শতক থেকেই জামদানির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। ইতিহাস বিশারদদের ধারণা, বাংলা ও পুণ্ডনগরের কাউটিকায়ায় প্রথম জামদানি শাড়ির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। ঐতিহ্যবাহী শাড়ি মসলিন ও জামদানির উত্পত্তি প্রায় সমসাময়িক। তত্কালে ভারতবর্ষ তো বটেই, পুরো দুনিয়ায় সুনাম ছিল জামদানি ও মসলিন শাড়ির।
জামদানি যে বাংলাদেশের পণ্য, এর আগে জাতিসংঘের ঐতিহ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কোর কাছ থেকেও ২০১৩ সালে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী জিআই মেধাস্বত্বের আলাদা স্বীকৃতির প্রয়োজন ছিল। তা অর্জিত হওয়ায় পণ্যটি এখন দুনিয়ায় বাড়তি নজর পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতির ফলে জামদানি নিয়ে গবেষণায় উত্সাহ সৃষ্টি হবে এমনটিও আশা করা যায়। পাশাপাশি এই বস্ত্র আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠার উপযোগিতাও সৃষ্টি হবে। জামদানিশিল্পীদের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে তা ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সর্বজনস্বীকৃত জামদানির বহুমুখী ব্যবহার, আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম ও ঐতিহ্যের কারণে জনপ্রিয়তা ও চাহিদা অনেক বেড়েছে। রপ্তানি হচ্ছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে বাঙালি। গুণগত মান, রং ও বাহারি ডিজাইনের কারণে বাংলাদেশি জামদানির চাহিদা দিনে দিনে বাড়ছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাঙালি নারীদের মধ্যে জামদানি শাড়ির প্রচলন বেড়ে চলেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অধিক পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ এই পণ্য ভারতের সঙ্গে আমাদের আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। জামদানি শাড়ি আমাদের বাঙালি জাতির অহংকার ও গৌরবের বস্তু।
জাতীয়তার পরিচয়কে বহন করে আছে জামদানি শাড়ি। বাঙালি নারীদের সবচেয়ে পছন্দের শাড়ি জামদানি। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশি নারীদেরও জামদানি শাড়ি পছন্দের তালিকায় অবস্থান করে নিয়েছে। জামদানির প্রসারে যাদের সীমাহীন অবদান রয়েছে, তারা বর্তমানে খুবই ম্রিয়মাণ। ব্যক্তিস্বার্থ জামদানিশিল্পকে গ্রাস করে ফেলছে। আজ সময় এসেছে জামদানিকে কুচক্রীদের হাত থেকে মুক্ত করে এর ঐতিহ্য রক্ষা করার। জামদানিকে যথার্থ শিল্প হিসেবে ব্যাপক বিকাশের ক্ষেত্রে যারা ভূমিকা রাখতে পারেন, তাদের হাতেই এর নেতৃত্ব থাকা উচিত। এ ব্যাপারে সরকারকে নজর দিতে হবে। জামদানিশিল্প যেন হারিয়ে না যায়। এই শিল্প বাঁচলে বাংলাদেশ অন্য এক উচ্চতায় স্থান করে নেবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে সর্বক্ষেত্রে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তাবায়নে শেখ হাসিনা যে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, তার সার্থকতায় জামদানিশিল্পের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করি।
n লেখক :শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর
