ফতুল্লার শিল্পনগরী বিসিক এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী-পুলিশের সংঘর্ষে এক নারী শ্রমিক নিহত ও পুলিশসহ অর্ধশত আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিক্ষোভের পাশাপাশি ভাংচুরের চেষ্টা চালালে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে দুপক্ষে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় বুবলি বেগম নামে এক নারী শ্রমিক আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মারা যান। নিহত বুবলি এনআর গার্মেন্টসে হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন। আহতদের শহরের ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মুহাম্মদ মঞ্জুর কাদের নারী শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বিসিকের এনআর গার্মেন্টসের শ্রমিকরা সকালে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শ্রমিকরা এলোপাথারি দৌড়াতে থাকেন। এ সময় ঐ নারী শ্রমিক আহত হন। পরবর্তীতে তিনি মারা যান।
শিল্প পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকরা খুব উত্তেজিত ছিল। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি শ্রমিকদের শান্ত করতে। মাইক লাগিয়ে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। সকাল ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। এরপর শ্রমিকরা ভাঙচুর, স্টাফদের মারধর ও পুলিশের উপর ইট-পাটকেল মারা শুরু করে। তখন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের উপর চড়াও হয়। এ সময় ৯ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, অন্যান্য গার্মেন্টস শ্রমিকের চেয়ে কোন অংশে কম কাজ না করলেও আমাদের বেতন-ভাতা কম দেওয়া হয়। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি অনেকবার। কিন্তু মালিকপক্ষ তা কর্ণপাত করেননি। বাধ্য হয়ে আমরা আজ বিক্ষোভে নেমেছি। পুলিশের হামলায় অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়েছে বলে তারা জানান।
এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিসিকের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে আবারও যে কোন সময়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
