ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-মাধবপুর সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খানাখন্দে ভরা সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি গর্তে জমে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৯ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকে সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর মেরামতের কাজ শুরু হলেও আকস্মিকভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে।
বিশেষ করে নাসিরনগর থেকে মাধবপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটি এখন অনেকটা ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে এর অবস্থা চরম বেহাল।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হওয়া গর্তে পানি জমে যায়। এতে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। গর্তে চাকা পড়ে অনেক সময় যানবাহন উল্টে যাচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন দুই উপজেলার অসংখ্য মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নুরপুর, চৈয়ারকুড়ি, শ্যামপুর, বেলুয়া, নরহা, হরিণবেড় ও হরিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু কার্পেটিং নয়, কোথাও কোথাও পাথর, খোয়া ও বালিও উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় গর্ত।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির পর এসব গর্তে পানি জমে থাকে। এক দিন বৃষ্টি হলে অনেক সময় প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত পানি জমে থাকায় সড়কটি দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ রসিকতা করে সড়কটির নাম দিয়েছেন ‘কোমড়ভাঙা রোড’।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মোমেন জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারের ব্যর্থতার কারণে সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করছেন না। দ্রুতই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যও এ সড়কের সমস্যার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকে ‘বেহাল দশা নাসিরনগরের অধিকাংশ সড়কের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নাসিরনগর-মাধবপুর সড়কের মেরামতকাজ শুরু হয়। তবে কিছুদিন পরই আকস্মিকভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সংস্কারের আশায় থাকা এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

