অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা

সামরিক পরাজয় স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

  • ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা বাড়ালে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে চীন
  • আইআরজিসি কমান্ডারদের বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০০

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে যে, তারা সামরিক অভিযানে পরাজিত হয়েছে। এমন মন্তব্য করেছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মোহেবি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করাই যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের প্রমাণ।

ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থান থাকবে না : রেজায়ি

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, নিজেদের ভবিষ্যত্ নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থান থাকবে না। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফায়েক জেইদানের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ও ইরাকের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরেন। তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ইরান একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ইরাক দেখতে চায়। রেজায়ি বলেন, এই অঞ্চলের ভবিষ্যত্ নির্ধারণ করবে এ অঞ্চলের দেশগুলোই; সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকবে না। তিনি একই সঙ্গে দুই দেশের সীমান্তে অবস্থানরত ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি চীনের

ইরান এবং তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ঘোষণার জবাবে চীন তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করবে বলে জানিয়েছে। কারণ ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে চীনও রয়েছে। চীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, চীন এই অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করছে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান আরো বলেন, চীন ও ইরানের মধ্যবর্তী পারস্পরিক সহযোগিতা সবসময়ই আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর ভেতরে থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং এতে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করা মোটেও উচিত নয়।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নতুন এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ঘোষণা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের সাথে আর্থিক অংশীদারিত্ব রাখা যে কোনো দেশকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামপ্রতিক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কর্মসূচি নিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আনসারী বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো একতরফা এবং কাতার মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের পক্ষপাতী। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী  গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

অন্যদিকে আইআরজিসির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবস্থান এবং তাদের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এদের মধ্যে রয়েছেন আইআরজিসি প্রধান আহমেদ ওয়াহিদি, ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড খাতামুল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান আলি আব্দুল্লাহি, অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার সাঈদ আগাজানি, সাইবার ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান হামিদরেজা লশগরিয়ান এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা মাজিদ খাদেমি। —বিবিসি ও আলজাজিরা

ইত্তেফাক/এনএন