জেলেদের মরদেহ উদ্ধারের গুজবে কবর খনন, কাফনের কাপড় কেনা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪০

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির পর বরগুনার পাথরঘাটার পাঁচ জেলের নিখোঁজের ঘটনায় মরদেহ উদ্ধারের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্বজনরা বাড়িতে কবর খনন, কাফনের কাপড় কেনাসহ দাফনের প্রস্তুতি নেন। তবে নিখোঁজ জেলেদের মৃত্যুর বা মরদেহ উদ্ধারের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এখনো তাদের উদ্ধারে সাগরে অভিযান চলছে।

নিখোঁজ পাঁচ জেলে হলেন মো. বিল্লাল, মো. কাওসার, মো. নুর আলম, মো. শাকিল ও মো. ইব্রাহিম। তারা সবাই বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৩ জন জেলে ‘এফবি বরকত’ নামের মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যান। সোমবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সাগরে নোঙর করা অবস্থায় উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।

এ সময় ট্রলারে থাকা ১৩ জেলের মধ্যে আটজন সাঁতরে কাছাকাছি থাকা অন্য একটি ট্রলারে উঠতে সক্ষম হন। তবে নিখোঁজ হন পাঁচজন। পরে ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে দুটি ট্রলার সাগরে পাঠানো হয়।

এর মধ্যেই নিখোঁজ জেলেদের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবর শুনে স্বজনদের মধ্যে আহাজারি শুরু হয়। অনেক বাড়িতে কবর খনন, কাফনের কাপড় কেনাসহ দাফনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়।

পাথরঘাটা উপজেলার গহরপুর গ্রামে নিখোঁজ নুর আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মৃত্যুর খবর শুনে স্ত্রী, বাবা-মাসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যরা কবর খনন করছেন। কেউ বাঁশ কাটছেন, কেউ পানি গরম করছেন। বাড়িতে জড়ো হতে থাকেন আত্মীয়স্বজন।

তবে সকাল গড়িয়ে বিকেল হলেও মরদেহ না আসায় বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে স্বজনরা জানতে পারেন, নিখোঁজ পাঁচ জেলের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

নুর আলমের চাচা ফারুক মোল্লা বলেন, সকালে নুর আলমসহ অন্য জেলেদের মরদেহ পাওয়া গেছে এবং বাড়িতে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে খবর পান। এরপর কাফনের কাপড় কেনা ও কবর খননসহ দাফনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু পরে জানতে পারেন, খবরটি সত্য নয়।

নুর আলমের বাবা জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, ‘আমার ছেলে জীবিত না মৃত—এখন সবই অনিশ্চিত।’ তিনি বলেন, সকালে ছেলের মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে সারাদিন দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরে জানতে পারেন, সেটি গুজব। ছেলের মরদেহ অন্তত উদ্ধার করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে বেঁচে ফেরা জেলে জামাল বলেন, তিনি বেঁচে ফিরলেও নিখোঁজ জেলেরা কোথায় আছেন, তা জানেন না। তারা ট্রলারের ভেতরে আটকে আছেন, নাকি সাগরে ভেসে গেছেন—সেটিও নিশ্চিত নন। তবে মানুষের কাছে তাদের মরদেহ উদ্ধারের কথা শুনেছেন বলে জানান তিনি।

নিখোঁজ কাওসারের স্ত্রী তামান্না বলেন, এখন পর্যন্ত স্বামীর বিষয়ে কোনো সঠিক খবর পাননি। বিভিন্নজনের কাছে মরদেহ উদ্ধারের কথা শুনে কবর খনন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ডুবে যাওয়া ট্রলারের নিখোঁজ পাঁচ জেলেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখা গেছে বলে খবর পাওয়া গেলেও পাথরঘাটা থানায় এখনো কোনো মরদেহ পৌঁছায়নি। ফলে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আলহাজ নুরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে তিনি তদারকি করছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। দল-মত নির্বিশেষে জেলেদের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

সূত্র: জাগো নিউজ

ইত্তেফাক/এসএ