প্রায় তিন বছর আগে থেকে বিতরণ শুরু হলেও দেশের অধিকাংশ নাগরিক এখনো পাননি আধুনিক সুবিধা-সংবলিত উন্নতমানের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র। ৯ কোটি ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৩ কোটি ৩২ লাখ ভোটার স্মার্টকার্ড পেয়েছেন। প্রায় ৬ কোটি ভোটার স্মার্টকার্ড থেকে বঞ্চিত। কবে নাগাদ দেশের সব নাগরিক স্মার্টকার্ড পাবেন, তার সঠিক তথ্য জানা নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। এদিকে, নট ফাউন্ডের কারণে অনেকের স্মার্টকার্ড আটকে আছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ কমিটির এক বৈঠকে নট ফাউন্ডসহ দ্রুত স্মার্টকার্ড ছাপানোর জন্য সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, স্মার্টকার্ড মুদ্রণ ও বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০ মিলিয়ন, অর্থাত্ ৯ কোটি। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে স্মার্টকার্ড মুদ্রণ শুরু হয়। আর ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর থেকে তা বিতরণ শুরু হয়। এ পর্যন্ত স্মার্টকার্ড ছাপানো হয়েছে ৪ কোটি ৬০ লাখ। বিতরণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৩২ লাখ। ছাপানো কার্ডের বেশিরভাগ উপজেলা নির্বাচন অফিসে অবিতরণ হিসেবে রয়ে গেছে।
স্মার্টকার্ড বিতরণের শুরু থেকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে অনেক নাগরিককে। এসব নাগরিকের এনআইডি নম্বর দিয়ে কার্ড খুঁজতে গেলে সেখানে ‘নট ফাউন্ড’ লেখা আসে। মানে তাদের তথ্যে হয় কোনো ভুল আছে, না হয় তথ্যের ঘাটতি আছে। ২০১৬ সাল থেকে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি কমিশন। স্মার্টকার্ডও পায়নি ঐ সব নাগরিক।
এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, ‘দ্রুতই নট ফাউন্ড সমস্যার সমাধান করা হবে। যারা স্মার্টকার্ড পাচ্ছে না, তাদের তথ্য অসম্পূর্ণ। তবে আমরা এখন পরিকল্পনামাফিক কাজ করছি। যেসব এলাকায় স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে, তাদের ৭৫ দিন আগে জানানো হচ্ছে। প্রথমে আমরা ওই এলাকার স্মার্টকার্ড প্রিন্ট দিচ্ছি। তারপর দেখছি কোন কার্ডগুলো প্রিন্ট হয়নি। যেগুলো প্রিন্ট হবে না, সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন অফিসে তার একটা তালিকা প্রকাশ করা হবে। যাদের কার্ডে যে অংশে সমস্যা আছে, পুনরায় ফরম পূরণ করিয়ে তা আবার প্রিন্ট দিয়ে ঐ এলাকায় পাঠানো হবে।’
ইসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দেড় লাখ পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। অথচ এসব কাজে সরাসরি যুক্ত কর্মীরা যে প্রকল্পের আওতায়, সেই প্রকল্পের অস্তিত্ব নিয়েই অনিশ্চয়তা আছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন, স্মার্টকার্ড ছাপা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় কাজ করে আসছেন প্রায় দেড় হাজার কর্মী। বিগত আট বছরে তাদের কারিগরি দক্ষতা তৈরি হয়েছে এ কাজে। তারা নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র শাখার আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস-আইডিয়া প্রকল্পের আওতায় কাজ করছে ২০১১ সাল থেকে। এই প্রকল্প পাঁচ বছরের হলেও পরে কয়েক ধাপে মেয়াদ বেড়েছে। এ বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল মেয়াদ। তবে আবার বেড়েছে। এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা, যা কর্মীদের কাজের ভবিষ্যেক অনিশ্চিত করে। প্রকল্পের কর্মীদের রাজস্ব খাতে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় কখনো কখনো, কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি।
