অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানি করতে চায় রাষ্ট্রপক্ষ। এ লক্ষ্যে চলছে পেপারবুক প্রস্তুতের কাজ। পেপারবুক প্রস্তুত সম্পন্ন হলেই ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে পাঠাবেন প্রধান বিচারপতি। এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেছেন, ডেথ রেফারেন্সের মামলায় সাধারণত রাষ্ট্রপক্ষে পেপারবুক তৈরি করা হয়। যেমন, পিলখানা (বিডিআর) হত্যা মামলায় বিশেষ ব্যবস্থায় পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাতে দ্রুত পেপারবুক প্রস্তুত হয় তা সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টিতে আনব। পেপারবুক প্রস্তুত হলেই ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ফৌজদারি মামলায় দায়রা আদালত যখন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেয় তখন ঐ দণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মামলার সকল নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। ঐ নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পেপারবুক প্রস্তুত প্রসঙ্গে হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, পেপারবুক তৈরির কাজ চলছে। এজন্য ডেথ রেফারেন্স শাখার দুই জন মুদ্রাক্ষরিক মামলার সকল নথি টাইপের কাজে সার্বক্ষণিক নিযুক্ত রয়েছেন। এটা সম্পন্ন হলেই পেপারবুক ছাপানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার পেপারবুক অনেক সময় সুপ্রিম কোর্ট নিজেই ছাপিয়ে থাকে, না হলে বিজি প্রেসের মাধ্যমে ছাপানো হয়ে থাকে। তবে এ মামলার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত দুইটি মামলায় গত বছরের ১০ অক্টোবর সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে ‘ডাবল’ মৃত্যুদণ্ড দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। দণ্ডিতদের মধ্যে অধিকাংশই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতা। একই অপরাধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। রায়ে বলা হয়, হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও তার সহযোগীরা গ্রেনেড হামলার কিছুদিন আগে বনানীর হাওয়া ভবনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। পরে এক বৈঠকে তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করার সহযোগিতা চায় জঙ্গিরা। তারেক রহমান উপস্থিত সবার সামনে জঙ্গিদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আর ঐ হামলার মুখ্য উদ্দেশ ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করে তার দলকে নেতৃত্বশূন্য করা। গত ডিসেম্বর মাসে পূর্ণাঙ্গ এই রায় প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজার রায় বাতিল চেয়েছেন দণ্ডিতরা। দণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ আসামি ৩৪টি এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি ১৪টি আপিল দায়ের করেছেন বলে ফৌজদারি আপিল শাখা সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক কারণে কাউকে আসামি করা হয়নি: অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চারদিক থেকে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই অনেককে দেশ ত্যাগ ও পালাতে দেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলকে ও তার নেতা-নেত্রীদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্যই এ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। যারা বলেন, রাজনৈতিক কারণে আসামি করা হয়েছে, এটা সম্পূর্ণ অসত্য কথা। এখানে সাক্ষ্য প্রমাণে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদেরই আসামি করা হয়েছে ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
