আকিকার মিষ্টি খেয়ে অসুস্থতার অভিযোগ, হাসপাতালে ৮ শিশু

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০০

ফরিদপুরের বাখুন্ডায় আকিকার অনুষ্ঠানে মিষ্টি খাওয়ার পর অসুস্থতার অভিযোগ উঠেছে।  অসুস্থ ৮ শিশুকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের খলিল মন্ডল হাটের ‘মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’ থেকে কেনা মিষ্টি খাওয়ার পর শিশুদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাতের দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাখুন্ডা পূর্বপাড়ার আকরাম খান ও মাসুদের বাড়িতে আকিকার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিতে তাদের আত্মীয় হারুন সরদার ও কেয়া বেগম সেখানে আসেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হারুন সরদার স্থানীয় খলিল মন্ডলের হাট থেকে মিষ্টি কিনে আনেন। প্রায় দুপুর ১টার দিকে বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে আসার পর দুপুরের খাবার শেষে বাড়িতে থাকা স্বজন ও স্থানীয় শিশুরা সেগুলো খান।

মিষ্টি খাওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকজন শিশু বমি করতে শুরু করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে তাদের ওরস্যালাইন খাওয়ানো হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাত ৮টার দিকে অসুস্থ ৮ শিশুকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা হলো—তাসফিয়া, তাওহিদ, সুমাইয়া, সামিয়া, সানভীর, শাহাদ, মাহাদি ও সাইম। তাদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।

এদিকে মিষ্টি খেয়ে অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দোকানমালিক জিয়ারত মোল্লা। তিনি দাবি করেন, অন্য কোনো কারণেও শিশুরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। তার ভাষ্য, তার দোকান থেকে নিয়মিত বহু মানুষ মিষ্টি কিনলেও এ ধরনের অভিযোগ আগে পাওয়া যায়নি। মিষ্টি পরীক্ষা করেও দেখার আহ্বান জানান তিনি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের হাসপাতালে আনার পর জরুরি সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তুহিনুর রহমান মন্ডল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিশুরা বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

 

 
ইত্তেফাক/এসএ