ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে বাঁচিয়ে পুরস্কৃত হলেন সেই পুলিশ সদস্য 

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ২১:২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ঝাঁপ দেওয়া এক নারীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করায় পুলিশ কনস্টেবল অমিত হাসানকে পুরস্কৃত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রউফ। সাহসিকতা ও মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রেসিয়েশন’ ও অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কনস্টেবল অমিত হাসানের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার আব্দুর রউফ।

কনস্টেবল অমিত হাসান নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) বদলি হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার প্রথম ব্রিজ থেকে ২৪ বছর বয়সী এক নারী তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে সেখানে ঘুরতে যাওয়া কনস্টেবল অমিত হাসান এক মুহূর্ত দেরি না করে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে ওই নারীকে উদ্ধার করে একটি নৌকার সহায়তায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন তিনি। পরে দ্রুত ওই নারীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কনস্টেবল অমিত হাসানের বিদায় উপলক্ষে তার ব্যাচমেট কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী, মো. ফয়সাল ও ইফরান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় তারা দেখতে পান, এক নারী ব্রিজ থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন অমিত হাসান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে-ওই নারী আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। পুলিশ সদস্য অমিত হাসান তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে তার মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়।’

ওই নারীর মায়ের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামের ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার আব্দুর রউফ বলেন, ‘তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করায় কনস্টেবল অমিত হাসানকে তার সাহসিকতা ও মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।’

ঘটনার সময় কনস্টেবল অমিত হাসানের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একজন নারীর জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসায় তার পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/আরএইচ