রাজধানীসহ সারাদেশে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা ও স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্কিং ব্যবস্থা এবং চার্জিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছে ‘রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনটি মোট ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে।
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এছাড়া ১০ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এলজিআরডি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সারাদেশে রিকশা ও ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সেখানে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, সরকারের ওই পরিকল্পনা দেখে মনে হচ্ছে উৎপাদন, চার্জিং, লাইসেন্স ও চলাচলের বিষয়গুলোকে পুরোপুরি ব্যবসায়িক মানসিকতায় পরিচালনা করা হবে। এতে একদল ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে এসব যানবাহন জিম্মি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে যানজট, দুর্ঘটনা ও লোডশেডিংয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু কেন এত মানুষ এসব বাহন চালান এবং কেন সাধারণ মানুষ এগুলো ব্যবহার করেন—সেই বাস্তব কারণগুলো কেউ বলছেন না। তীব্র বেকারত্ব মানুষকে রিকশা চালানোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে সহজ ও সস্তা বিকল্প না থাকায় যাত্রীরাও এসব বাহন বেছে নিচ্ছেন। লোডশেডিং সবচেয়ে কম থাকে রাত ১০টার পর। তখনই ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। তাই অপপ্রচার নয়, সমস্যার কার্যকর সমাধান দরকার।
সংগ্রাম পরিষদ গত ১৩ বছর ধরে যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং গাড়ি-চালক-যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজিবাইক ও রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য বিআরটিএর অধীনে একটি সমন্বিত নীতিমালার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। এ আন্দোলনে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা কারাবরণ ও মামলার শিকার হয়েছেন। তবু এখনো কোনো নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি।
সংগঠনের ছয় দফা দাবি হলো-
১. প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও রুট পারমিটের আওতায় এনে একটি সমন্বিত নীতিমালা ও বিধিমালা চূড়ান্ত করে স্থানীয় অটোমোবাইল শিল্প রক্ষা করা।
২. স্থানীয় উৎপাদকদের সরকারি অনুমোদিত ডিজাইনে ই-রিকশা উৎপাদন ও বিপণনের অনুমতি দেওয়া এবং স্থানীয় মেকানিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। বিশেষ গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটকে কোনো সুবিধা না দেওয়া।
৩. দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি প্রতিস্থাপনে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া।
৪. লাইসেন্স, নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহার করা। সৌরবিদ্যুৎ ব্যয়বহুল এবং আলোক স্বল্পতার কারণে এর ব্যবহার সমস্যা তৈরি করে।
৫. দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও পাখিসহ অন্যান্য যানবাহন সরকার অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী সংশোধন বা পরিবর্তন করতে কমপক্ষে দুই বছর সময় দেওয়া।
৬. যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রতিটি মহাসড়কে স্বল্পগতির বা লোকাল যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণ করা।

