পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দুমকী উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল হয়।
এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় দুমকী উপজেলায় একই অভিযোগে বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল হয়। দুটি উপজেলার পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা কমিটি বাতিল করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৭ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি আবুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি বুধবার এ কমিটি অনুমোদন করেন।
ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি গাজী রাশেদ শামস, সিনিয়র সহসভাপতি নাসির উদ্দিন হাওলাদার, সহসভাপতি আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী,সাধারণ সম্পাদক গাজী আতাউর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহীন হাদি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম শাহীন ও দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন জুয়েল।
মূলত কমিটি ঘোষণার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জাগঞ্জে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া উপজেলা যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসন আমলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, নির্যাতিত হয়েছি। অথচ ব্যবসায়ী ও মাদক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে যদি পকেট কমিটি দেওয়া হয়, তা হলে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনীতি পঙ্গু হয়ে পড়বে।’
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুমকী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সরদার অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলার যুবদলের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে দুজন ব্যবসায়ীকে। জাহিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তিনি পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের পায়রা সেতুর টোল প্লাজা চত্বর এলাকায় অবস্থিত দ্য বিরতি সেন্টার নামে একটি রেস্তোরাঁর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিগত দিনগুলোতে রুবেল দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি।
একই অভিযোগ করেন সদ্য সাবেক উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন হাওলাদার (৪৮)। তিনি বলেন, জাকির আলম নামের একজন ব্যবসায়ীকে সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছে। তিনি যুবদল করলেও ব্যবসার কারণে ১২ মাসই ঢাকায় অবস্থান করেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা মৃত ইউনুচ আলী হাওলাদার ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৫ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত দুমকী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমিও বাবার সঙ্গে শৈশব থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত থেকে তৃণমূলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ছিলাম। মূলত পদবঞ্চিত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অভিযোগ আদৌ সত্য নয়।’

