সৌদিতে নিহত আত্রাইয়ের ৪ জন পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায়

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২১

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার চার প্রবাসীর মরদেহ পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় উপজেলার গণ্ডগোহালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাদের একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহগুলো গ্রামের কবরস্থানে নিয়ে দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন—গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন।

মরদেহ আসার খবর পাওয়ার পর আগেই পাশাপাশি চারটি কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। কবরস্থানের এক পাশে দুই ভাই মোহন ও সুমন আলীকে এবং অন্য পাশে একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক ও কলিমুদ্দিনকে দাফন করা হয়। তারা সবাই সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় একসঙ্গে কাজ করতেন।

একসঙ্গে চারটি মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে গণ্ডগোহালীতে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘৪৭ বছরের জীবনে কখনো এতগুলো মরদেহ একসঙ্গে দাফন করতে দেখিনি। একই গ্রাম থেকে চারজনের এভাবে বিদায় নেওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। আমরা চাই, কোনো গ্রামেই যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।’

নিহতদের প্রতিবেশীরা জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-ঘুম করতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষগুলো এভাবে চলে যাবেন—এখনো তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। চারটি পরিবারের স্বজনরা একসঙ্গে প্রিয়জন হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টায় আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে নিহতদের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার দেশে আনা হয়। তাদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়।

দেশে আসা আত্রাইয়ের নিহত অন্য তিনজন হলেন—উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

 
ইত্তেফাক/এমএএম