ফরিদপুরের ভাঙ্গা কাজী শামচুন্নেচ্ছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন না করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তের শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজের পর ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত মুসল্লি অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। তারা প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে গড়িমসির অভিযোগও করেন। এ সময় আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন এসব অনিয়ম করে আসছেন বলেও সমাবেশে দাবি করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন কাজী শামচুন্নেচ্ছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক সদস্য মিঞা মোহাম্মদ আলমগীর, সমাজসেবক হেমায়েত হোসেন, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এনায়েত মুন্সী, ছাত্রনেতা ও সমন্বয়ক আকাশ, ভাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শওকত হোসেন বলেন, সরকারি পরিপত্র প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে কেন তা পালন করা হয়নি, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।
তবে প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য তিনি বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক জাকির হোসেনকে এক হাজার টাকা দিয়েছেন। তার দাবি, ওই টাকা দিয়ে মিষ্টি কিনে কোর্ট মসজিদে তবারক বিতরণ করা হয়েছে।

