বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার স্যানালপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিগ্রি ও সনদবিহীন এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। চিকিৎসা সনদের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অপচিকিৎসা দিয়ে আসায় অভিযুক্ত সুনীল কুমার বিশ্বাসকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সুনীল কুমার বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা সনদ ছাড়াই স্যানালপাড়া এলাকায় চেম্বার খুলে অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন। তিনি নিয়মিত রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান, নিষিদ্ধ ওষুধ প্রেসক্রাইব করা এমনকি অবৈধভাবে শল্য চিকিৎসাও (অপারেশন) পরিচালনা করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার চেম্বারে অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ অস্ত্রোপচারের সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন, ২০১০ অনুযায়ী ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অভিযানকালে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আমিরুল ইসলাম। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুজ্জামান হিমু।
ভুয়া ডাক্তার ও অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। শুক্রবার সকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

