চুরির অপবাদ দিয়ে রাজশাহী ও লালমনিরহাটে পৃথক দুটি স্থানে দুই কিশোরকে হাত বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পৈশাচিক এই নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় মুঠোফোন ও টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে পিছমোড়া করে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি চিৎকার করে কাঁদলেও নির্যাতনকারীরা তাকে পায়ের নখ কেটে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী কিশোর নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে তার মামা হলেও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাটে একটি মসজিদের মাইক চুরির অভিযোগে ১৫ বছর বয়সী আরেক কিশোরকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে দুই হাত বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠির আঘাত ও চড়-থাপ্পড়ে ওই কিশোর মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।

