পারিবারিক বিরোধের জেরে জামাইয়ের কুড়ালের কোপে প্রাণ গেল শ্বশুরের

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮

গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিজের কলার দোকানে বসে থাকা মজিদ মোড়ল (৬৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার জামাতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জামালপুর কলাপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মজিদ মোড়ল জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলতু মোড়লের ছেলে। তিনি কলা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযুক্ত জামাতা মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মুজা সরকার (৩৫) উত্তর জামালপুর সরকারপাড়া এলাকার মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে জামালপুর কলাপট্টিতে নিজের কলার দোকানে বসেছিলেন মজিদ মোড়ল। এ সময় একটি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে সেখানে আসেন তার জামাতা মোজাম্মেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রলি ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে মজিদকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে মজিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মোজাম্মেল ট্রলি ব্যাগটি ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যান বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মজিদকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মজিদের মেয়ে শাহানাজ বেগমের সঙ্গে মোজাম্মেলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, মোজাম্মেল মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। এ কারণে শাহানাজ একাধিকবার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন মোড়ল বলেন, স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে আসার পরও মোজাম্মেল সেখানে গিয়ে এবং পথেঘাটে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। এ বিষয় নিয়ে তার বাবা মজিদ মোড়লের সঙ্গে মোজাম্মেলের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

নিহতের মেয়ে ও মোজাম্মেলের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, শুক্রবার বিকেলে তার বাবা দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় ট্রলি ব্যাগ নিয়ে সেখানে আসেন মোজাম্মেল। পরে ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে তার বাবাকে কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে বাবা মাটিতে পড়ে গেলে মোজাম্মেল ট্রলি ব্যাগটি ফেলে পালিয়ে যান।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. জিয়াউর রহমান বলেন, মজিদ মোড়লকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি