সাইফকে ছুরিকাঘাতের দায় স্বীকার করতে চান শরিফুল: পিটিআই

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৫

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম আদালতে অপরাধ স্বীকার করতে চান। একই সঙ্গে শাস্তি লঘু করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। শরিফুলের আইনজীবীর বরাতে বার্তা সংস্থা পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) শরিফুলের আইনজীবী বিপুল দুশিং আদালতে জানান, তার মক্কেল অপরাধ স্বীকারের ইচ্ছা প্রকাশ করে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।

তবে আদালত এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। শরিফুলের আবেদনের বিষয়ে সরকারি আইনজীবীর জবাব চেয়েছেন আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর।

চলতি মাসের শুরুতে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক জি পি দেশমুখ শরিফুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মাধ্যমে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর পথ তৈরি হয়।

সাইফ আলী খানকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত শরিফুল

পুলিশের অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ডাকাতি, সাইফকে গুরুতর আহত করা এবং জোর করে তার বাড়িতে প্রবেশের ঘটনায় শরিফুল জড়িত। এ ছাড়া বিদেশি নাগরিক এবং ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে পাসপোর্টসংক্রান্ত আইনের কয়েকটি ধারায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটে

২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাড়িতে হামলার শিকার হন সাইফ আলী খান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এক অনুপ্রবেশকারী তার ১২ তলার বাসায় ঢুকে অভিনেতাকে ছুরি দিয়ে একাধিকবার আঘাত করেন।

গুরুতর আহত সাইফকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শরীরে ছয়টি আঘাত ছিল এবং মেরুদণ্ডের কাছেও গভীর ক্ষত হয়। অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি।

ঘটনার তিন দিন পর, ১৯ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের থানের কাছে একটি ম্যানগ্রোভ এলাকা থেকে শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ। পুলিশের দাবি, শরিফুল বাংলাদেশের নাগরিক এবং তিনিই সাইফের বাড়িতে ঢুকে হামলা করেছিলেন।

তবে গ্রেপ্তারের পর শরিফুলের আইনজীবী দাবি করেন, তার মক্কেল বাংলাদেশি এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ দেখাতে পারেনি।

শরিফুলের বাবা রুহুল আমিন ফকিরও সে সময় দাবি করেছিলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তি তার ছেলে হলেও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ব্যক্তিটি শরিফুল নন। ফুটেজে থাকা ব্যক্তির মুখের গড়ন ও চুলের সঙ্গে তার ছেলের মিল নেই বলেও দাবি করেন তিনি। ছেলের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছিলেন রুহুল আমিন।

ছুরিকাঘাতে হামলার পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাইফ আলী খান। ফাইল ছবি

হামলার রাতের অভিজ্ঞতা জানিয়েছিলেন সাইফ

হামলার পর এক সাক্ষাৎকারে সেই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সাইফ। তিনি জানান, হামলার সময় তার মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো আর বাঁচবেন না। ওই মুহূর্তে ছেলে তৈমুরকে পাশে চেয়েছিলেন তিনি এবং তাকে সঙ্গে করে হাসপাতালে যেতে বলেছিলেন।

হামলাকারীকে ক্ষমা করার বিষয়ে সাইফ বলেন, তিনি তাকে ক্ষমা করে দিতে পারতেন। তবে যেভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটি ভুলে যাওয়া তার জন্য কঠিন।

এদিকে, প্রিয়দর্শন পরিচালিত ‘হায়ওয়ান’ ছবিতে শিগগিরই দেখা যাবে সাইফ আলী খানকে। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন অক্ষয় কুমার। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

ইত্তেফাক/এসজে