চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন রনজিলা, ফিরলেন লাশ হয়ে

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৫

চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে শুক্রবার রাতে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন রনজিলা পারভীন (৫৭)। পরিকল্পনা ছিল, শনিবার ভোরে রাজধানীতে পৌঁছে চিকিৎসা শেষে বিকেলেই বগুড়ার বাড়িতে ফিরবেন। তবে বাড়িতে যাওয়ার আশা আর পূরণ হলো না তার। রাজধানীতেই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারাতে হলো এই প্রধান শিক্ষককে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ব্যাগ নিয়ে টানাটানির একপর্যায়ে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মারা যান রনজিলা। 

রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি বগুড়া শহরের রহমান নগর এলাকায় স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামে। ১৯৮৮ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন রনজিলা। 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১২টার বাসে করে স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রনজিলা। শনিবার ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে নেমে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার জন্য তারা একটি রিকশায় ওঠেন। সকাল ৬টার দিকে রিকশাটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ছিনতাইকারী এসে রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেয়।

টানাটানিতে সামলাতে না পেরে চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় ছিটকে পড়েন তিনি। এতে মাথায় মারাত্মক আঘাত পান। পরে তার স্বামী পথচারীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসা শেষে বিকেলেই বগুড়ায় ফেরার কথা ছিল বোনের। কিন্তু ছিনতাইকারীদের কারণে লাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বগুড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আগামীকাল রোববার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফন করা হবে।’

রনজিলার স্বামী ব্যবসায়ী এবং তাদের একমাত্র মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে সহকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইত্তেফাক/এমএস