সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অডিট আপত্তি’ নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটি রেলওয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত মনে হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান। অডিট আপত্তি বিষয়ক একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের মহাপরিচালককে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালককে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করার জন্য রিপোর্টটি করা হয়েছে। এখানে যে অভিযোগগুলোর বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো সরকারি নিরীক্ষা দপ্তর কর্তৃক উত্থাপিত। নিরীক্ষা কমিটিতে কারিগরি দিক যাচাই করার জন্য বিশেষজ্ঞ থাকেন না। কিন্তু প্রকল্পে কারিগরি দিক যাচাই-বাছাই করার জন্য দক্ষ এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান থাকে। প্রতিটি কাজ শুরু করার পূর্বেই তাদের সংশ্লিষ্ট এক্সপার্ট দ্বারা যাচাই-বাছাই করার পরেই তা বাস্তবায়ন করা হয়। সংবাদে বলা হয়েছে, বাধের উচ্চতা হ্রাস করে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে, যা অডিট আপত্তির রিপোর্টের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অনুমোদনক্রমে এবং বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি বা তথা সিসিজিপি কর্তৃক অনুমোদন গ্রহণ করে। প্রকল্পের মূল নকশায় কোথাও পরিবর্তন করতে পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত (বরখাস্ত) একজন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার দেখানো হয়েছে, যিনি নিজেই দুর্নীতির দায়ে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন। একজন বিতর্কিত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রচারিত করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া হয়নি বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, সরকারি নিরীক্ষা বিভাগ সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমের (আর্থিক সংশ্লিষ্ট) নিরীক্ষা করে থাকে। প্রাথমিকভাবে তারা তাদের দৃষ্টিতে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেন এবং এই অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্যও অনেকগুলো সরকারি পর্যায়ের রয়েছে। উত্থাপিত অনেকগুলো অভিযোগের বিপরীতে ব্রডশিট জবাব, উপযুক্ত যুক্তি প্রমাণাদি সাপেক্ষে ইতোমধ্যে বেশিরভাগ আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অবশিষ্ট আপত্তি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াধীন আছে। অডিট আপত্তি একটি স্বাভাবিক চলমান প্রক্রিয়া।
পদ্মা সেতু রেল সংযুক্ত প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিআরটিসি বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে কাজের গুণগত মান ও পরিমাণ ইত্যাদি নিশ্চিত করে প্রত্যয়নের পর প্রতিটি বিল প্রকল্প দপ্তরের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ উপদেষ্টা ও হিসাব বিভাগের অনুমোদন নিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়ে চাইনিজ দূতাবাসের মাধ্যমে চীনা এক্মিম ব্যাংকে প্রেরণ করা হয়। এবং চীনা এক্মিম ব্যাংক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল প্রদান করে। অথচ প্রচারিত সংবাদে মনগড়া তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো গুনগত মান রক্ষা করা হয়নি ও বিল প্রদানে কোনো নিয়ম মানা হয়নি।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় রেলওয়ে অবকাঠামো নির্মাণ কাজের জন্য চাইনিজ ঠিকাদারের সাথে ২৪৭৪৯ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের ২৪৭৪৯ কোটি টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২২৬৮২ কোটি টাকা, যা চুক্তিপত্রের চেয়ে অনেক কম।
প্রচারিত সংবাদে বলা হয়েছে, ১৩৩৬১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে যা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে প্রকল্পের ব্যয় ১৮৪৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সকল কাজ শেষ করে চূড়ান্ত হিসাব শেষে আরও হ্রাস পাবে মর্মে আশা করা যায়। তাছাড়া এই প্রকল্পে বর্তমান মহাপরিচালকের পূর্বে তিনজন প্রকল্প পরিচালক ছিলেন, এবং তাদের সময়েই উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অনেক কার্যক্রম সম্পাদিত হয়েছে। কিন্তু উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে বর্তমান মহাপরিচালককে উদ্দেশ্য করে সংবাদটি প্রকাশ করছে করা হয়েছে।
বার্তায় প্রতিবেদনটি যাচাই করে প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

