ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ায় ছয়দিন ধরে বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন অবস্থায় রয়েছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নুরজাহানপুর অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র গরমে ফ্যান ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে পাঠ নিতে হচ্ছে শতাধিক শিক্ষার্থীকে। বিদ্যুৎ না থাকায় বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি তোলা সম্ভব না হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট রাতে বিদ্যালয়ের বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমারটি চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকেই বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে শ্রেণিকক্ষের ফ্যান বন্ধ থাকার পাশাপাশি মোটরের মাধ্যমে পানি তোলাও সম্ভব হচ্ছে না। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি, দুর্বলতা ও অসুস্থতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিন বেগম বলেন,
গত ২৯ আগস্ট রাতে কোনো এক সময় ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়। এরপর থেকেই বিদ্যালয়টি বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটিকে জানানো হয়েছে। শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এর আগেও বিদ্যালয়ের ফ্যান, টিউবওয়েল ও প্রাচীরের ওপরের লোহার গ্রিল চুরির ঘটনা ঘটেছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল মোসতাকিনা জান্নাতি মিমের ভাষ্য, ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার কারণে গরমে ক্লাস করতে কষ্ট হচ্ছে। পানির অভাবে ওয়াশরুমেও যাওয়া যাচ্ছে না।
অভিভাবক মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা, কিন্তু এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশুদের। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু না হলে গরমের কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমে যেতে পারে।
এদিকে ট্রান্সফরমার চুরির পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতেও জটিলতা দেখা দিয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ঘোড়াঘাট জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে হয়। তবে বিদ্যালয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ওই অর্থ কে বা কীভাবে পরিশোধ করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, চুরি হয়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার দ্রুত প্রতিস্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যুৎ বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে (ডিজিএম) জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে পুনরায় ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার আশঙ্কায় বিদ্যালয়ের পেছনের লাইন দিয়ে বিকল্পভাবে সংযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

