মাঠ জুড়ে থৈ থৈ পানি ও ঘাস, কলেজের খেলার মাঠে হচ্ছে মাছ চাষ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪১

এক ফোঁটা বৃষ্টিতেই যেখানে মুখর হওয়ার কথা ছিল কিশোরদের কলকাকলিতে, সেখানে আজ শুধু থৈ থৈ পানি আর শেওলা ও ঘাসের রাজ্য। জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী সরিষাবাড়ী কলেজের একমাত্র খেলার মাঠটি এখন জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে রূপ নিয়েছে এক স্থায়ী জলাধারে।

নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় মাসের পর মাস জমে থাকা এই পানিতে এখন স্থানীয়দের কেউ কেউ মাছ চাষের ক্ষেত্র বানিয়ে ফেলেছেন—যা একসময় ছিল শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত প্রাণবন্ত প্রাঙ্গণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ​১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী সরিষাবাড়ী কলেজ। বর্তমানে কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। কিন্তু কলেজের একমাত্র খেলার মাঠটি আশপাশের মূল সড়ক থেকে বেশ নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বছরের অধিকাংশ সময় বৃষ্টির পানি আটকে থাকায় পুরো মাঠে জন্ম নিয়েছে বড় বড় আগাছা, কচুরিপানা ও শেওলা। খেলাধুলা তো দূরে থাক, মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ারও কোন উপায় নেই। দীর্ঘদিন ধরে খেলার মাঠে পানি জমে থাকার  কারণে মশা, পোকামাকড় ও সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। 

সরিষাবাড়ী কলেজের শিক্ষার্থী আহসান হাবীব, মঞ্জুরুল ইসলাম, নাহিদা ইয়াসমিন, তাহিরা আক্তার সহ একাধিক শিক্ষার্থী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সারা বছর মাঠে পানি জমে থাকায় খেলাধুলা তো দূরের কথা, মাঠের কাছে যাওয়ারও উপায় থাকে না। আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের একমাত্র জায়গাটি আজ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্ধী থাকার কারনে খেলাধুলা ব্যহত হচ্ছে।  দ্রুত মাটি ভরাট করে মাঠটি ব্যবহার উপযোগী করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয়দের দাবী, স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য জরুরি ভিত্তিতে মাটি ভরাট, সমতলকরণ এবং কার্যকরী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবেই ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের শিক্ষার্থী ও আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ফিরে পাবে তাদের প্রাণচাঞ্চল্য ও খেলাধুলার পরিবেশ।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিমুল এহছান শাহীন বলেন, মাঠের জলাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি গুরুত্বের সাথে সমস্যার সমাধান করার জন্য মাঠটি উঁচু করে মাটি ভরাট এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ নিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

 

ইত্তেফাক/এনএ