সৌদি আরবে বাড়িভাড়া কম হওয়া এবং আলোচনা করে বিভিন্ন সেবার মাশুল কমানোয় ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিচ্ছে সরকার। তাদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা পাঠানো হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করা একজন হাজি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। তবে ২৩ জন হাজির চিকিৎসা ব্যয় তাদের স্বাস্থ্যবীমার নির্ধারিত অর্থের চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।
ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজে বাড়িভাড়ার জন্য নির্ধারিত অর্থের তুলনায় কম খরচে আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সার্ভিস চার্জও কমানো হয়। এসব খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থই হাজিদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
এ উদ্যোগকে ‘অভূতপূর্ব পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে কায়কোবাদ বলেন, হাজিদের স্বার্থে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ নিরুৎসাহিত করার কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ জন হাজির হাতে ফেরতযোগ্য অর্থের চেক তুলে দেওয়া হয়। অন্য হাজিদের অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো হবে।
প্যাকেজভেদে কত টাকা ফেরত
২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের জন্য হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ), হজ প্যাকেজ-২ এবং হজ প্যাকেজ-৩—এই তিনটি প্যাকেজ ছিল।
হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ)-এর হোটেল বুল্লরা আল দুররার ১ নম্বর বাড়িতে পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা এবং সংক্ষিপ্ত প্যাকেজের হাজিরা ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা করে ফেরত পাবেন।
একই হোটেলে দুই সিটের আপগ্রেডেশনে থাকা হাজিরা ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা এবং সংক্ষিপ্ত প্যাকেজের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ফেরত পাবেন। তিন সিটের আপগ্রেডেশনে ফেরতের পরিমাণ যথাক্রমে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ও ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা।
হজ প্যাকেজ-২-এর হোটেল লুলুয়াত আল তাওহীদে ক্যাটাগরি অনুযায়ী হাজিরা সর্বনিম্ন ২ হাজার ৫০৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। সর্বোচ্চ অর্থটি দুই সিটের শর্ট প্যাকেজের হাজিদের দেওয়া হবে।
হোটেল রাওদাত আল শুরুকে সাধারণ প্যাকেজে ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা, সংক্ষিপ্ত প্যাকেজে ১২ হাজার ১৭০ টাকা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনে ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনে ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
হোটেল মানার আল শুরুকে সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৭ হাজার ৪১৪ টাকা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনে ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনে ৬ হাজার ২৪৯ টাকা ফেরত পাবেন।
অন্যদিকে, হজ প্যাকেজ-৩-এর ৫ নম্বর বাড়ি হোটেল নাম্বার ওয়ানের পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৩ হাজার ৭১৮ টাকা করে ফেরত পাবেন। এ প্যাকেজে শর্ট বা আপগ্রেডেশনের কোনো সুযোগ ছিল না।
প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান
ফেরতযোগ্য অর্থ নিয়ে প্রতারণার আশঙ্কায় হাজিদের সতর্ক করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টাকা ফেরত বা অনুদান পাঠানোর কথা বলে কখনোই কোনো হাজির কাছে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর, বিকাশ, নগদ বা রকেটের পিন কিংবা ওটিপি চাওয়া হবে না।
এ ধরনের তথ্য চেয়ে কেউ ফোন করলে প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য হাজিদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

