উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ হেরেই মূল পর্বে খেলার দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছিল যুবারা। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে লক্ষ্য ছিল অন্তত শেষটা রাঙিয়ে সান্ত্বনার কিছু নিয়ে দেশে ফেরা। তবে সেটিও করতে ব্যর্থ হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে ৩-০ গোলে।
গতকাল পুরো ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের কোনো পর্যায়েই ভারতের সঙ্গে টক্কর দিতে পারেনি যুবারা। শুরু থেকেই ভুল পাসের কারণে বারবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তারা। একাধিক সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন ফাহিম, আব্বাস, ফয়সালরা।
পুরো টুর্নামেন্টেই ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। অথচ এই দলের একাধিক খেলোয়াড় খেলেছেন সর্বশেষ সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে। মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতে দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ। সে কারণে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দলটিকে ঘিরে বাড়তি প্রত্যাশা ছিল। আত্মবিশ্বাস নিয়েও উজবেকিস্তানের বিমানে উঠেছিলেন ফুটবলাররা।
কিন্তু টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করেছে যুবারা। গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে হেরেছে ২-০ গোলে। এরপর সিরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে মূল পর্বে খেলার আশা শেষ হয়ে যায়। আর গতকাল ভারতের কাছে হারল একই ব্যবধানে। তিন ম্যাচে ৮ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল জড়াতে পারেনি তারা।
অথচ প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে বড় স্বপ্ন নিয়ে উজবেকিস্তানে পা রেখেছিল যুবারা। দলের প্রবাসী খেলোয়াড়দের ঘিরে যে প্রত্যাশা ছিল, তার ছিটেফোঁটাও পূরণ করতে পারেননি তারা। অ্যাডাম আব্বাসরা পুরো টুর্নামেন্টেই ছিলেন নিষ্প্রাণ। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর বরখাস্ত করা হয় ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোন্সকে। ফলে তৃতীয় ম্যাচে দলের ডাগআউট সামলেছেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। তবে দেশি কোচের অধীনেও ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। যদিও টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দেশে ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে জেরার্ড জোন্সের একাধিক কর্মকাণ্ড বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে জোন্সের বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছিল। মাঠের বাইরের এসব ঘটনার প্রভাব দলের পারফরম্যান্সেও পড়েছে। যদিও দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোচের মধ্যে দ্বন্দ্ব মাঠের খেলায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তখন তিনি বড় গলায় বলেছিলেন, মাঠের বাইরের কোনো কিছুই মাঠের খেলায় প্রভাব ফেলবে না, অথচ দেখা দিয়েছে উলটো চিত্র।

