হঠাৎ ঝাঁঝালো গন্ধে ক্লাসরুমে জ্ঞান হারালো ১৫ শিক্ষার্থী

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৯

শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় ঝাঁঝালো গন্ধে হঠাৎ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবেই পাঠদান কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ৪/৫ জন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে ক্লাসে উপস্থিত অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী সংজ্ঞাহীন হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের হঠাৎ এমন অসুস্থতায় শ্রেণিকক্ষে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সহপাঠী ও শিক্ষকরা দ্রুত এগিয়ে এসে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করছেন।

হাসপাতালে ভর্তি করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক শিক্ষার্থীরা হচ্ছে- ফাতেমা বেগম ( ১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাজ উদ্দিন (১১), জামেলা বেগম (১৪), ফারহানা আক্তার (১৪), পারভিন আক্তার ( ১৩)‌।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, প্রথমে যে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়িতে যাওয়ার পর তাদের জ্ঞান ফিরে এসেছে। কিন্তু পরবর্তীতে যারা অজ্ঞান হয়েছে তাদের কারো জ্ঞান না ফেরায় অবশেষে উপজেলা হাসপাতাল নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। কি কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা এখনো বোধগম্য নয়।

এই ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, আমরা কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। বিদ্যালয়ে‌ কোনো ঝাঁঝালো গন্ধের কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনার খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদেরকে  দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ও থানার ওসি মো. কবির হোসেন।

ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, হঠাৎ কীভাবে এমন ঝাঁঝালো গন্ধের সৃষ্টি হলো এবং এটি কোনো ক্ষতিকর গ্যাস লিকেজ বা রাসায়নিক পদার্থ থেকে ছড়িয়েছে কি না— তা খতিয়ে দেখতে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। যেহেতু হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে সাধারণ মানুষের ভিড় জমে গেছে। তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ‌‌ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি