চট্টগ্রামে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ফাঁকা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৯

দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী যানবাহনের জন্য আশির দশকে নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল। কিন্তু টার্মিনালটির ৫০ শতাংশও ব্যবহার হচ্ছে না। প্রায় সময় ফাঁকা থাকে বৃহত্ টার্মিনালটি। অধিকাংশ গণপরিবহনের বাস চান্দগাঁও থানার সামনে ও কর্ণফুলি সেতুর উত্তর পাশে সড়কের ওপর বাসস্ট্যান্ড করে দিনে-রাতে যাত্রী পরিবহন করছে। এতে এসব স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ব্যস্ততম সড়কের ওপর অবৈধ বাসস্ট্যান্ড করে দীর্ঘদিন যাবত্ যাত্রী পরিবহন করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পরিবহন মালিকদের একাংশের অভিযোগ তারা প্রশাসনের সহযোগিতায় টামিনাল ব্যবহার না করে সড়কের ওপর বাসস্ট্যান্ড বসিয়ে বছরের পর বছর যাত্রী পরিবহন করছে।

জানতে চাইলে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) হারুণ-অর-রশিদ হাজারী ইত্তেফাককে বলেন, সড়কের ওপর পার্কিং করে যাত্রী পরিবহনের নিয়ম নেই। কাউন্টার থাকলে যাত্রী তুলে বা নামিয়ে চলে যেতে পারে। চান্দগাঁও থানার সামনে পার্কিং নিয়ে স্টাডি করে বলতে পারব।’

জানা যায়, ১১টি পরিবহন মালিক সমিতি যৌথভাবে টার্মিনালটি ইজারা নিয়েছে। কাপ্তাই ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মোট ২৪টি রুটের বাস টার্মিনাল ব্যবহার করে থাকে। সৌদিয়া, এস আলম ও মারসার বাস ছাড়া বাকি গণপরিবহনের সকল বাসের টার্মিনাল থেকে যাত্রী পরিবহনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই নিয়ম মানছে না অধিকাংশ পরিবহন সংস্থা। গত কয়েক মাস যাবত্ পটিয়া, বরকল ও আনোয়ারার বাসগুলো কর্ণফুলি সেতুর উত্তর পাশে বাসস্ট্যান্ড বসিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। আবার এসব রুটের যাত্রীদের অন্য গাড়িতে করে কর্ণফুলী সেতু এলাকায় গিয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার কোচগুলোও সড়কের ওপর পার্কিং করে যাত্রী পরিবহন করছে। এর ফলে সেতু এলাকায় প্রায় যানজট লেগে থাকে।

জানা যায়, টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। তারা দুই বছরের জন্য টার্মিনাল ইজারা দিয়ে থাকে। টার্মিনালটি ইজারা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কারণ পরিবহন সমিতিগুলোই বারবার ইজারা নিয়ে থাকে। তাদের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি ইজারা নিতে পারে না। ফলে ইজারা নিয়ে প্রতিযোগিতা না থাকায় সিডিএ আশানুরূপ ইজারার টাকা পাচ্ছে না। জানতে চাইলে ইজারাদার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, টার্মিনালে বাস রেখে যাত্রী পরিবহনের জন্য আমরা ইজারা নিয়েছি। আমাদের আর কোনো বাড়তি আয় নেই। সমিতিভুক্ত প্রায় ৫০০ বাস টার্মিনাল ব্যবহার করে থাকে।’

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার বাস চলাচল করে। কিন্তু অর্ধেক বাসও টার্মিনালটি ব্যবহার করছে না। এতে টার্মিনালটি প্রায় ফাঁকা থাকে। দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত কোচগুলো টার্মিনাল এড়িয়ে চলছে। তারা কর্ণফুলি সংযোগ সড়কের ব্যস্ততম চান্দগাঁও থানার সামনে ও কর্ণফুলি সেতুর উত্তর পাশে সড়কের ওপর বাসস্ট্যান্ড করে দিনে-রাতে যাত্রী পরিবহন করছে। এতে এসব স্থানে নিত্য যানজট লেগে থাকে। সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে ছোটো-বড়ো গর্তের। পুলিশ প্রশাসনও অবৈধ বাসস্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দীর্ঘদিন যাবত্ বিভিন্ন সংগঠন ও সচেতন মানুষ সড়কের ওপর বসানো বাসস্ট্যান্ড সরানোর জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গোলাম রসুল বাবুল ইত্তেফাককে বলেন, সড়কের ওপর থেকে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড সরানোর জন্য আমরা বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়েছি। সব গাড়ি টার্মিনাল ব্যবহার করলে যান চলাচলে শৃঙ্খলা আসবে। যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব হবে।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ রয়েছে।  প্রবেশমুখে ইট উঠে গিয়ে সৃষ্ট গর্তের কারণে যানবাহনের জট লেগে থাকে। এছাড়া বহদ্দারহাটে ফ্লাইওভারের ও ওয়াসার পাইপ লাইন নির্মাণ কাজের জন্য কালুরঘাট রুটে চলাচলরত সমস্ত যানবাহন টার্মিনালের মাঝখান দিয়ে চলাচল করছে। এর ফলে টার্মিনাল আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পড়ে রয়েছে। এখানের গাড়ির কাউন্টার রয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের অবস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে রোদ বৃষ্টিতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সিডিএর সিনিয়র এস্টেট অফিসার চৌধুরী আবু হেনা বলেন, দুই বছরের জন্য টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হয়। পরিবহন সমিতিগুলো ইজারা নিয়ে থাকে। টার্মিনালের বাণিজ্যিক দোকানগুলো সালামিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টার্মিনালের উন্নয়ন কাজ সিডিএকে করতে হয়। যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে প্রতি বছর মেরামতের পেছনে প্রচুর অর্থ খরচ হচ্ছে।’